বাসস
  ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৯:০৬

কপোতাক্ষের পাড়ে ময়লার ভাগাড়, অপসারণ দাবি

ছবি : বাসস

ঝিনাইদহ, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : জেলার মহেশপুরে কপোতাক্ষ নদের পাড়ে গড়ে তোলা হয়েছে পৌরসভার ময়লার ভাগাড়। 

নদের পাড়ে গুরুত্বপূর্ণ বাইপাস সড়ক ঘেঁষে নিয়মিত ফেলা হচ্ছে পৌর এলাকার সব ধরনের বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী কপোতাক্ষ নদের প্রাকৃতিক রূপ। 

সেই সঙ্গে বাড়ছে বায়ু দূষণ। দূষণ ও দুর্গন্ধে সড়ক দিয়ে চলাচলেও ভোগান্তির মুখে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মহেশপুর পৌর শহরের পৌরসভা মোড় থেকে কপোতাক্ষ নদের পাড় হয়ে জলিলপুর অভিমুখী সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে ময়লার ভাগাড়। 

নদের পাড় দখল নিয়ে ময়লার ভাগাড় করায় উৎকট দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে। পথচারীরা মুখে কাপড় ও মাস্ক দিয়ে চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে।

সড়কের পূর্বদিকেই মহেশপুর পৌর পাইকারি মাছের বাজার। ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধে মাছের বাজারেও ভোগান্তিতে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আশেপাশের বাসিন্দারাও দূষণ-দুর্গন্ধে অতিষ্ট। 

পৌরসভা এলাকার সব ময়লা, মেডিকেল বর্জ্য ও হাট-বাজারের বর্জ্য নিয়মিত ফেলা হয় এই ভাগাড়ে। প্রায় ৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে নদের পাড় দখল করে পৌরসভা এই ময়লার ভাগাড় তৈরি করেছে। 

ময়লার ভাগাড় অন্যত্র সরিয়ে নিতে স্থানীয়রা বারবার পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাহী অফিস বরাবর আবেদন করেও কোনো সমাধান পাননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা পরশ কুমার দাস বাসসকে বলেন, পৌরসভার গাড়িতে করে প্রতিদিন কপোতাক্ষ নদের পাড়ে রাস্তার পাশে ময়লা ফেলে রেখে যায়। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা বৃষ্টি হলেই সড়কের ওপর চলে আসে। দুর্গন্ধে সড়ক দিয়ে চলাচল করা যায় না। নদের পানিও নোংরা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা মিশে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুরুজ আহমেদ বলেন, চার বছর আগে তৎকালীন পৌর মেয়র কারও পরামর্শ ও মতামত ছাড়াই কপোতাক্ষ নদের পাড় দখল করে ভাগাড় তৈরি করে। 

নদের পাড় তো পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ওয়াপদা) জায়গা। আমরা চাই, বর্তমান প্রশাসন যেন দ্রুত কপোতাক্ষ নদের পাড় দখলমুক্ত করে ময়লা ভাগাড় অন্যত্র সরিয়ে নেয়। এটাই আমাদের দাবি।

এ ব্যাপারে মহেশপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সোহেল রানা বলেন, ময়লার ভাগাড় তৈরির জন্য উপযুক্ত জায়গা না পেয়ে প্রায় ৪ বছর আগে কপোতাক্ষ নদের পাড়ে ময়লার ভাগাড় করা হয়। তৎকালীন মেয়রের নির্দেশে ওই ভাগাড় করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক মো. সাজ্জাদ হোসেন বাসসকে বলেন, পৌর বাসিন্দাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্ধারিত জায়গায় পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশন তৈরির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ডাম্পিং স্টেশনে যাতায়াতের রাস্তা সংক্রান্ত জটিলতায় বর্জ্য স্থানান্তরের কাজ শুরু করতে পারিনি। তবে এ নিয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।