শিরোনাম

রাজশাহী, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : বছরব্যাপী বইপড়া কার্যক্রমে কৃতিত্বপূর্ণ অংশগ্রহণের জন্য রাজশাহী নগরীর ৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ২ হাজার ১২০জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
আজ রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র এবং গ্রামীণফোন লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে স্কুলভিত্তিক এই বইপড়া কর্মসূচির বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘শুভেচ্ছা’ ক্যাটাগরিতে ১ হাজার ৩৮১ জন, ‘অভিনন্দন’ ক্যাটাগরিতে ৬৫৪ জন এবং ‘সেরা পাঠক’ ক্যাটাগরিতে ৮৫ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ৪১৩ জন ছাত্র এবং ১ হাজার ৭০৭ জন ছাত্রী রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি স্কুলের ১ হাজার ৭৬৬ জন শিক্ষার্থী সরাসরি মঞ্চে এসে পুরস্কার গ্রহণ করে। এ ছাড়া বাকি ১০টি স্কুলের ৩৫৪ জন শিক্ষার্থীর পক্ষে তাদের শিক্ষক ও আয়োজকরা পুরস্কার গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ড. চিত্রলেখা নাজনীন, জেলা প্রশাসক কাজী শহীদুল ইসলাম, বিশিষ্ট অভিনেতা, লেখক ও অনুবাদক খায়রুল আলম সবুজ এবং প্রখ্যাত পাখি বিশেষজ্ঞ, চিত্রগ্রাহক ও লেখক ইনাম আল হক।
এ ছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)’র বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান খান এবং গ্রামীণফোন লিমিটেডের রাজশাহী সার্কেলের টেকনোলজি প্রধান নন্দন কুমার সাহাসহ শিক্ষা বিভাগ ও বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্যে খায়রুল আলম সবুজ বলেন, ‘সুন্দরভাবে বাঁচতে হলে নিজের জগৎকে বড় করতে হয়। আর জগৎকে প্রসারিত করার প্রধান মাধ্যম হলো বইপড়া।’
ইনাম আল হক বলেন, মানবসভ্যতার শুরু থেকেই বই জ্ঞান সংরক্ষণ করে আসছে। বইয়ের পাতা থেকে অর্জিত জ্ঞান সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভবিষ্যতের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।
গ্রামীণফোনের রাজশাহী সার্কেলের টেকনোলজি প্রধান নন্দন কুমার সাহা বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের মানবিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ সাধনে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচির সঙ্গে গত দুই দশক ধরে অংশীদার হিসেবে কাজ করছে গ্রামীণফোন।’ বইপড়ার পাশাপাশি শিশুদের নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারেও অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক সচিব খন্দকার আসাদুজ্জামান তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বইপড়া কর্মসূচি সফল করে তুলতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, এ বছর প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অনলাইন সেফটি ফান্ডামেন্টালস’ শীর্ষক সচেতনতামূলক অনলাইন কোর্স চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে স্থাপিত ‘অনলাইন সেফটি কর্নার’ থেকে শিশু ও কিশোরদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ সম্পর্কে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সচেতন করা হয়।