শিরোনাম

চট্টগ্রাম, ২৮ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বছরব্যাপী স্কুল পর্যায়ের বইপড়া কর্মসূচিতে কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে চট্টগ্রামের ১০১টি স্কুলের ৫ হাজার ৮৯৫ শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) চট্টগ্রাম মহানগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আয়োজিত দিনব্যাপী পুরস্কার বিতরণ উৎসবে শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪ হাজার ৬১৬ জন ‘শুভেচ্ছা’, ১ হাজার ১৫০ জন ‘অভিনন্দন’ এবং ১২৯ জন ‘সেরা পাঠক’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রী ৪ হাজার ১৪৩ জন এবং ছাত্র ১ হাজার ৭৫২ জন।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ৯৪টি স্কুলের শিক্ষার্থীরা সরাসরি মঞ্চ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করে। বাকি সাতটি স্কুলের ৩০৮ শিক্ষার্থীর পুরস্কার আয়োজকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অর্পণাচরণ সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে অতিথিরা বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি মূল্যবোধ ও মানবিকতা বিকাশের জন্য শিক্ষার্থীদের বই পড়তে হবে।
তিনি বলেন, ‘বই আমাদের অতীত ও ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত করে। মানবিকতাকে জাগিয়ে তুলতে আমাদের বই পড়তে হবে।’
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) ও দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন খান শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই।’
বাংলাদেশের প্রথম নারী চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) প্রথম নারী সভাপতি ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি পারভীন মাহমুদ এফসিএ শিক্ষার্থীদের নিজেদের জানার, স্বপ্ন দেখার এবং সেই স্বপ্ন পূরণে নিরলসভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি, স্থপতি ও স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ আলী নকী বলেন, ‘বই পড়ার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা যায়।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন গ্রামীণফোনের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান মোহাম্মদ মিনহাজ উল আলম, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সংগঠক অ্যালেক্স আলীম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের ভেন্যুতে ‘অনলাইন সেফটি কর্নার’ও স্থাপন করা হয়। সেখানে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ সম্পর্কে অভিভাবক ও শিক্ষকদের তথ্য দেওয়া হয়।