বাসস
  ২৭ আগস্ট ২০২৬, ২১:০৮

ময়মনসিংহে কাস্টমস সিপাহী হত্যাকাণ্ডে ২ আসামি গ্রেফতার

ময়মনসিংহ, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় কাস্টমস সিপাহী মো. রাকিব রায়হান (৪০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ২ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, লোহার রড, ৩টি ছুরি, কাঠের খাটিয়া ও রক্তমাখা পাঞ্জাবি জব্দ করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেফতারকৃত আসামিদের সংশ্লিষ্টদের মামলায় ময়মনসিংহের চীফ জুডিশিয়াল আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন-ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সোয়াইতপুর গ্রামের মো. ফজলুল হক মির্জার ছেলে মো. রাজু মির্জা (২২) এবং একই উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের মো. সুরুজ মির্জার ছেলে মো. সোহেল মির্জা ওরফে জিতুল (২০)। এর মধ্যে রাজু মির্জা নিহত রাকিব রায়হানের বাড়ির কেয়ারটেকার ছিল।

এর আগে গতকাল বুধবার মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, চলতি বছরের গত ২৪ জুলাই ফুলবাড়ীয়া উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন কাস্টমস সিপাহী মো. রাকিব রায়হান। এ ঘটনায় নিহত সিপাহীর বড় ভাই মো. নূরুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ২৭ জুলাই ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। 

এ ঘটনার পর গত ২ আগস্ট উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের পরিত্যক্ত খাল থেকে ৩টি ব্যাগে রাকিব রায়হানের ১৫ টুকরা মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

এ ঘটনার পর নিহত রাকিব রায়হানের ভাই মো. নূরুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ৪ আগস্ট ফুলবাড়িয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রধান আসামি রাজু মির্জা দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে নিহত রাকিব রায়হানের বিশ্বাস্থ কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন। 

গ্রেফতার হওয়া আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জানা যায়, ঘটনার রাতে আসামি রাজু মির্জা নিহত আবু রায়হানকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে অচেতন করে রড দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করে। 

এরপর ঘরে থাকা নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে ফেলে।

তিনি বলেন, হত্যার পর মৃতদেহ গুম করার জন্য অপর আসামি মো. সোহেল মির্জা ওরফে জিতুলের সহযোগিতায় মৃতদেহ টয়লেটে নিয়ে গরুর মাংস কাটার খাটিয়ায় রেখে ১৫ টুকরা করে বিভিন্ন অংশ তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও কাপড়ে পেঁচিয়ে বাড়ির পূর্ব পাশে পরিত্যক্ত ডোবার ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে রাখে। 

এছাড়া হত্যার পর ঘটনাস্থলের আলামত নষ্ট ও অপরাধ গোপনের উদ্দেশ্যে ডিটারজেন্ট পাউডার, হ্যান্ডওয়াশ, হারপিকসহ বিভিন্ন পরিষ্কারক সামগ্রী ব্যবহার করে ঘর ও বাথরুম পরিষ্কার করে দুজন।

রাকিব রায়হান নিখোঁজ থাকার সময় তার মোবাইল ফোন ও ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলনের ঘটনাও ঘটে, যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আব্দুল্লাহ আল মামুন বাসসকে আরও জানান, ইতোমধ্যে আসামিরা আদালতের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলমান, তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ বিবরণ জানা যাবে।