বাসস
  ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১৯:২২

প্রতিরক্ষা শিল্পকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে রপ্তানি সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: বাসস

চট্টগ্রাম, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও উৎপাদনমুখী শিল্প হিসেবে গড়ে তুলে রপ্তানি সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে এবং একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় ভাটিয়ারীতে জলিল টেক্সটাইল মিল মিলনায়তনে বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি (বিওএফ) সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস ্ কর্পোরেশন (বিটিএমসি)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিকট হস্তান্তরে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিরক্ষা শিল্পের পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রকৃতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। গত দুই-তিন দশক ধরে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যে পরিবর্তন শুরু হয়েছে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন বৈশ্বিক সংঘাত তা আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। বিশেষত তুলনামূলক কম ব্যয়ে উদ্ভাবন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার একটি দেশের সামরিক সক্ষমতাকে কতটুকু প্রভাবিত করতে পারে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি তার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

তিনি বলেন, ড্রোনসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এখন যুদ্ধের গতি-প্রকৃতি পরিবর্তন করে দিচ্ছে। সেইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম মজুদ রাখার প্রচলিত ধারণার ক্ষেত্রেও নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর ও উদ্ভাবনমুখী করতে হবে।

প্রতিরক্ষা শিল্পে গবেষণা ও উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ড্রোন ও অন্যান্য আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে তারা তুলনামূলক কম ব্যয়ে বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ও প্রযুক্তিনির্ভর সরঞ্জাম উৎপাদন করছে। বাংলাদেশের জন্যও এক্ষেত্রে বড় সুযোগ রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্জিত জ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত সক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব। পাশাপাশি নিজস্ব গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির সম্প্রসারণ শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করলে চলবে না, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রপ্তানি সম্ভাবনাও রয়েছে। যথাযথ পরিকল্পনা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করতে পারলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে স্থান করে নিতে পারবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, দেশের বন্ধ শিল্প-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার মাধ্যমে শিল্প খাতকে সমৃদ্ধ করতে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের আগেই দেশের বন্ধ শিল্প-কারখানাগুলোকে পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের অবস্থান ও সম্ভাবনা বিবেচনা করে সেগুলোকে নতুনভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশের মানুষের গর্ব ও আস্থার প্রতীক নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এই বাহিনীর সুনাম রয়েছে। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, বিওএফ সম্প্রসারণ তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশনের পক্ষে বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষে মিলিটারী এস্টেট অফিসার মিসেস সাজিয়ে তাহের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।