বাসস
  ১০ আগস্ট ২০২৬, ২২:০৯

মেহেরপুরে মাটির নিচ থেকে পাওয়া ৯৬টি মাইন নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে

ছবি : বাসস

মেহেরপুর, ১০ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): জেলার গাংনী উপজেলায় রাস্তা মেরামতের জন্য মাটি কাটতে গিয়ে মাটির নিচ থেকে ৯৬টি অ্যান্টি-পার্সোনেল ও অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন উদ্ধার করা হয়েছে। 

মুক্তিযুদ্ধের সময় এসব মাইন পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক মাটির নিচে থাকার পরও মাইনগুলো সক্রিয় ছিল। 

আজ সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সেগুলো নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করেছে।

গত শনিবার দুপুরে উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামে রাস্তা মেরামতের জন্য মাটি কাটার সময় প্রথম মাইনসদৃশ বস্তুগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়। 

স্থানীয় বাসিন্দা জাদু শাহ বলেন, বাড়ি তৈরির ইট আনার সুবিধার জন্য রাস্তার পাশের একটি উঁচু জায়গা থেকে মাটি কেটে রাস্তায় ফেলা হয়েছিল। সম্প্রতি বৃষ্টির পানিতে ওই মাটি ধুয়ে যাওয়ার পর একটি প্লাস্টিকের টুলবক্স ও এর ভেতর মাইনসদৃশ বস্তু দেখা যায়।

খবর পেয়ে গাংনী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকা ঘিরে ফেলে। দুর্ঘটনা এড়াতে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করা হয়। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞ দল না আসা পর্যন্ত ঘটনাস্থল নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে রাখা হয়।

সোমবার বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে মাইনগুলো উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করার কাজ চলে। যশোরের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের ৩ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন মেজর তরিকুল ইসলাম।

সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল ৭৯টি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন এবং ১৭টি অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন উদ্ধার করে। পরে সেগুলো নিরাপদ দূরত্বে স্থানীয় মধুগাড়ী নদীর তীরে নিয়ে গিয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়।

যশোরের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সেনানিবাস থেকে আসা ১৯ সদস্যের বিশেষজ্ঞ বোমা ডিসপোজাল দলে নেতৃত্ব দেন সেনাবাহিনীর মেজর তরিকুল ইসলাম। 

তিনি জানান, মাইনগুলো শক্তিশালী। ৯৬টি ল্যান্ড মাইনের মধ্যে ৭৯টি মানববিধ্বংশী এবং ১৯টি ট্যাংক বিধ্বংসী। এর মধ্যে ২টি মাইন এত জোরে বিস্ফোরিত হয়েছে যে, এলাকা কেঁপে ওঠেছে।