বাসস
  ২২ জুন ২০২৬, ১৭:২৬

খুলনায় বি-কোম্পানির ৫ সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার 

খুলনা, ২২ জুন, ২০২৬, (বাসস): খুলনার চিহ্নিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘বি কোম্পানি’র পাঁচ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এ সময় তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। 

গতকাল রোববার রাতে এবং আজ সোমবার সকালে ঢাকা ও খুলনার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার এবং অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

আজ সোমবার কেএমপির গোয়েন্দা বিভাগের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া।

গ্রেফারকৃতরা হলেন, নগরীর গোবরচাকা এলাকার এস. এম. আইয়ুব আলীর ছেলে মো. আবরার ফয়সাল ওরফে রাফিন (২৪), শেখপাড়া লোহাপট্টির হাসিনার বাড়ির ভাড়াটিয়া মৃত নূর ইসলামের ছেলে মো. আল-আমিন (২৯), শেখপাড়া মেইন রোডস্থ বাদশা হাওলাদারের বাড়ি সংলগ্ন মো. রুহুল আমিন শিকদারের ছেলে মো. তুষার শিকদার (৩৮), নবীনগর খালাসি মাদরাসা সংলগ্ন  গাউসুল আজমের ছেলে মো. আসিফ (২৫) এবং নগরীর টুটপাড়া জোড়াকল বাজারের ইসলামের বাড়ির ভাড়াটিয়া হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. সাজ্জাদ হোসেন সাব্বির (১৮)।

ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া জানান, খুলনা মহানগরীতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। 

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী অপরাধী ও মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেএমপির উদ্যোগে গত ১ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্য, গোয়েন্দা নজরদারি এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসীদের অবস্থান শনাক্ত করে রোববার রাতে ঢাকার বংশাল এলাকা থেকে মো. আল-আমিন, মো. তুষার শিকদার, মো. আসিফ এবং মো. সাজ্জাদ হোসেন সাব্বিরকে গ্রেফতার করা হয়। 

পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আজ সোমবার সকালে খুলনা মহানগরীর গোবরচাকা এলাকার  এস. এম. আইয়ুব আলীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। 

সেখান থেকে সন্ত্রাসী মো. আবরার ফয়সাল ওরফে রাফিনকে গ্রেফতার এবং একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার এবং ৭ দশমিক ৬৫ বোরের দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

ডিবির দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা খুলনার চিহ্নিত ‘বি কোম্পানি’সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে।

তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে। 

উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। 

এছাড়া গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে খুলনায় সক্রিয় অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, তাদের সহযোগী এবং অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবি ডিসি মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, খুলনা মহানগরীতে কোনো অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদককারবারি কিংবা চিহ্নিত অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবে না। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।