শিরোনাম

ঢাকা, ২২ জুন ২০২৬ (বাসস): আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, প্রবীণদের সুরক্ষা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে আইন ও নীতিমালার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং এবিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
আন্তর্জাতিক প্রবীণ নির্যাতন প্রতিরোধ সচেতনতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আজ রাজধানীর মোহাম্মদপুরস্থ ওয়াইডব্লিউসিএ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কনসালটেশন সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) এ সভার আয়োজন করে।
আইনমন্ত্রী বলেন, প্রবীণরা বয়সজনিত কারণে অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের থেকেও বেশি অসহায় হয়ে পড়েন। তাই তাদের কল্যাণে রাষ্ট্রের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রবীণদের প্রতি অবহেলা ও নির্যাতনের অনেক ঘটনা কেবল আইন প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়; বরং এ ক্ষেত্রে সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ অপরিহার্য।
মন্ত্রী বলেন, সরকার প্রবীণদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রথমবারের মতো ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী নাগরিকদের জন্য রেল ভ্রমণ বিনামূল্যে করা হয়েছে এবং মেট্রোরেলে ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ৯০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রবীণদের ভাতা বৃদ্ধি করে এক হাজার টাকা করা হয়েছে।
তিনি প্রবীণদের অধিকার সুরক্ষায় বিদ্যমান পিতামাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩ এবং এর বিধিমালা, ২০২৩-এর প্রয়োজনীয় সংশোধনীর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা সরকারের কাছে উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট সংগঠনসমূহের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রবীণদের কল্যাণে আইনগত সংস্কারের প্রয়োজন হলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রবীণদের স্বার্থ রক্ষায় ‘জীবনস্বত্ব’ সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলো নিয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন, যাতে প্রবীণরা জীবদ্দশায় নিজেদের সম্পদের ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন।
তিনি জানান, আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর ১৬৬৯৯ হটলাইন এবং জেলা পর্যায়ের আইনগত সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রবীণদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা প্রদান করা হচ্ছে। দেশের যেকোনো প্রান্তে আইনগত সহায়তা, মধ্যস্থতা বা আশ্রয়ের প্রয়োজন হলে প্রবীণ ব্যক্তিরা এ সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
রিক-এর নির্বাহী পরিচালক আবুল হাসিব খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব, নারীপক্ষের সদস্য শিরীন পারভিন হক, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক চেয়ারপার্সন ড. হালিদা হানুম আখতার, এফআরইবি সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাই দাস প্রমুখ।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিক-বিএমজেড প্রকল্পের জাতীয় সমন্বয়কারী তোফাজ্জল হোসেন মঞ্জু।
মুক্ত আলোচনা পর্বে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, মানবাধিকার সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।