শিরোনাম

রাজবাড়ী, ২২ জুন (বাসস): শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশীয় মৌসুমি ফলের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি, পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় ফলের ঐতিহ্য তুলে ধরার লক্ষ্যে রাজবাড়ী সদর উপজেলা কালেক্টরেট স্কুলে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আজ ‘অভিভাবক সমাবেশ ও ফল উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তারিফ উল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শংকর চন্দ্র বৈদ্য, রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিরুপমা রায়, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পায়রা চৌধুরী এবং সহকারী কমিশনার মিজানুর রহমান।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, ‘মৌসুমি ফল উৎসব আমাদের জাতীয় জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। শিশুদের দেশীয় ফল সম্পর্কে পরিচিত করা, ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে কেবল পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবমুখী জ্ঞান, পুষ্টি সচেতনতা এবং দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পেলে একদিকে যেমন শিশুদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকরাও উপকৃত হবেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ফল শুধু সুস্বাদু খাদ্য নয়, এটি মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও পুষ্টির অন্যতম উৎস। শিশু-কিশোরদের মাঝে দেশীয় ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করতে হবে।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও অতিথিদের অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে। বিভিন্ন স্টলে দেশীয় মৌসুমি ফল আকর্ষণীয়ভাবে সাজিয়ে প্রদর্শন করা হয়। শিক্ষার্থীরা ফলের পুষ্টিগুণ, উপকারিতা এবং ফল চাষের গুরুত্ব তুলে ধরে অতিথিদের সামনে উপস্থাপন করেন।
পরে অতিথিরা ফল উৎসবের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। শিক্ষার্থীরা নৃত্যের মাধ্যমে ফল উৎসব সম্পর্কে চমৎকার তথ্য পরিবেশন করেন।
উৎসবের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও সৃজনশীল কার্যক্রমে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত অভিভাবক সমাবেশে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ নিয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিশুদের পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।