বাসস
  ২০ মে ২০২৬, ২২:০২

নেত্রকোণায় কৃষকদের ঠকানোর দায়ে ৪ ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড

ছবি : বাসস

নেত্রকোণা, ২০ মে, ২০২৬, (বাসস) : জেলার সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর উপজেলায় ধানের ওজনে সাধারণ কৃষকদের ঠকানোর দায়ে চার ধান ব্যবসায়ীকে মোট ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আজ বুধবার বিকেলে দুর্গাপুর পৌর শহরের ধানমহাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান।

অভিযান ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুরের ধানমহাল এলাকার ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের কাছ থেকে ৪২ কেজিতে এক মণ হিসাব করে ধান কিনে আসছিলেন। কিন্তু মূল্য পরিশোধের সময় কৃষকদের মাত্র ৪০ কেজির (এক মণ) দাম দেওয়া হতো।

অতিরিক্ত এই ২ কেজি ধানের কোনো মূল্য কৃষকরা পেতেন না। ফলে ঝড়-বৃষ্টি ও রোদ-ঘাম উপেক্ষা করে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছিলেন সীমান্তবর্তী এই উপজেলার হাজারো প্রান্তিক কৃষক।

এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আজ বিকেলে স্থানীয় প্রশাসন ধানমহাল এলাকায় আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে। ওজনে কারচুপির মাধ্যমে কৃষকদের ঠকানোর সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত শ্রীদাম প্রসাদ, ঝুটন সাহা, দেবল দে ও প্রবীর সাহা নামের চার ধান ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। 

একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এই ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকতে ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে সতর্ক করে দেয় প্রশাসন।

এদিকে প্রশাসনের এই অভিযানের প্রতিবাদে ধানমহালের ব্যবসায়ীরা সাময়িকভাবে ধান কেনাবেচা বন্ধ করে দেন। এতে দূর-দূরান্ত থেকে হাটে ধান নিয়ে আসা সাধারণ কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েন।

হাটে ধান বিক্রি করতে আসা স্থানীয় কৃষক রহিত মিয়া বলেন, ধান নিয়ে আসছি ৪০ টাকা মণে ভাড়া দিয়ে। এখন ফেরত নিয়ে গেলে আবারও ৪০ টাকা খরচ হবে। বাজারে এসে ৪২ কেজি ধান দিয়ে ৪০ কেজির দাম পাই, এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান বাসসকে বলেন, আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি এবং চার ব্যবসায়ীকে মোট ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা কিছুটা প্রতিক্রিয়া দেখাবেই। তবে ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও আমরা বসবো, যেন কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য পান। ভবিষ্যতেও আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।