বাসস
  ১০ জুন ২০২৬, ১৪:৩২
আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ১৪:৪৬

বিমসটেকের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

সোমবার ঢাকায় বিমসটেক-এর ২৯তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বক্তব্য রাখেন। ছবি: মন্ত্রণালয়

ঢাকা, ১০ জুন, ২০২৬ (বাসস) : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বিমসটেকের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। যোগাযোগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ককে তিনি অভিন্ন সমৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আস্থা, অন্তর্ভুক্তিমূলক মনোভাব ও সহযোগিতা বাড়াতে বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকায় ‘বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন’ (বিমসটেক)-এর ২৯তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ছবি: মন্ত্রণালয়

একটি উন্মুক্ত, সমৃদ্ধ ও আন্তঃসংযুক্ত বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল গড়ে তুলতে নিরবচ্ছিন্ন বহুমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ শৃঙ্খল এবং জনগণের মধ্যে আরও গভীর যোগাযোগের ওপর জোর দেন শামা ওবায়েদ।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুুল আউয়াল মিন্টু এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন উপস্থিত ছিলেন।

বিমসটেক-এর মহাসচিব ইন্দ্র মণি পাণ্ডে বলেন, এবারের বিমসটেক দিবস উদযাপন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। কারণ এই আঞ্চলিক জোটটি তার ২৯তম বার্ষিকী উদযাপনের পাশাপাশি ৩০তম বার্ষিকীতে পদার্পণের লক্ষ্যে বছরব্যাপী নানা কর্মসূচির সূচনা করেছে।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে বিমসটেক বিভিন্ন খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। একটি কার্যকর আঞ্চলিক সংস্থা হিসেবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোও তৈরি করেছে।

বিমসটেক চার্টার এবং ‘ভিশন ২০৩০’-এর কথা তুলে ধরে পাণ্ডে বলেন, এই সংস্থার কর্মপরিকল্পনায় এখন বেশ কিছু অগ্রাধিকারমূলক খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এগুলোকে এগিয়ে নিতে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠক, যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ, বিশেষজ্ঞ দল এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা কাজ করছে।

মহাসচিব বলেন, সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং তাদের উন্নয়নের আকাক্সক্ষা পূরণে সহায়তার লক্ষ্যে বিমসটেক পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থা এবং জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব জোরদার করছে। বিমসটেক সচিবালয় পরিচালনা এবং সংস্থাকে ক্রমাগত সমর্থন দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

ছবি: মন্ত্রণালয়

এ উপলক্ষে বিমসটেক ও এর সদস্য দেশগুলোকে অভিনন্দন জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম মূল ভিত্তি হিসেবে আঞ্চলিক সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।

তিনি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে সংযোগকারী একটি অনন্য সেতু হিসেবে বিমসটেককে বর্ণনা করেন। এই অঞ্চলের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্ব সুদৃঢ় করতে সাংস্কৃতিক বিনিময়, শিক্ষা, পর্যটন, ক্রীড়া কূটনীতি, যুব সম্পৃক্ততা এবং পেশাদারদের পারস্পরিক যোগাযোগের ভূমিকার ওপর জোর দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বিমসটেকের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী ও বিমসটেক সনদ কার্যকর করা এবং খাতভিত্তিক সহযোগিতা ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত সম্পদ ও কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিমসটেক সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, থিংক ট্যাংক বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

উৎসবমুখর এই আয়োজনে বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্যের প্রাণবন্ত প্রদর্শনী ছিল বিশেষ আকর্ষণ। সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা জাতীয় পতাকা হাতে ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে এক প্রতীকী শোভাযাত্রায় অংশ নেন, যা বিমসটেক পরিবারের বন্ধুত্ব ও সংহতির চেতনাকে তুলে ধরে।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং প্রদর্শনীর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর শিল্পকর্ম, হস্তশিল্প, বস্ত্র ও অন্যান্য অনন্য প্রতীক তুলে ধরা হয়, যা এই অঞ্চলের মানুষের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও স্বতন্ত্র পরিচয়কে নির্দেশ করে। সংবর্ধনায় সাতটি সদস্য দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারও পরিবেশন করা হয়।

বিমসটেক দিবসটি একযোগে সব সদস্য দেশে উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের এই সাতটি দেশ নিয়ে বিমসটেক গঠিত।

১৯৯৭ সালের ৬ জুন ব্যাংকক ঘোষণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বিমসটেক আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে।