শিরোনাম

-আসাদুজ্জামান-
সাতক্ষীরা, ২০ মে ২০২৬ (বাসস): আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে জেলায় এবার ১৩ হাজার ৪৪৯টি ছোট-বড় খামারে প্রস্তুত করা হয়েছে মোট একলাখ ২০ হাজার কোরবানির পশু। এসব গবাদি পশুর মধ্যে এর মধ্যে গরু ৫০ হাজার, ছাগল ৬০ হাজার এবং অন্যান্য পশু রয়েছে প্রায় ১০ হাজার।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে একলাখ একহাজার এবং এর বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে একলাখ ২০ হাজারটি পশু। ফলে উদ্বৃত্ত থাকবে ১৯ হাজার টি পশু।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চাহিদার তুলনায় বেশি হওয়ায় উদ্বৃত্ত কোরবানির পশু দেশের অন্য জেলাতেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
বিগত কয়েক বছর যাবত সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে গরু আসা বন্ধ থাকায় সাতক্ষীরার খামারিদের মধ্যে দেশী ও শংকর জাতের গবাদি পশুপালনে আগ্রহ বেড়েছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলার সাতটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট-বড় গরুর খামার।
এদিকে, কোরবানির আগে শেষ সময়ে জেলার খামারিরা গরুর পরিচর্যা, খাবার দেয়া আর বাজারজাতের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর চাঁদপুর গ্রামের খামারি আলমগীর হোসেন জানান, ২০২১ সালে একটি গরু নিয়ে তার খামারের যাত্রা শুরু হয়। এখন তার খামারে ঈদ উপলক্ষে মোট ৪০ টি গরু প্রস্তুত রয়েছে। এবার গোখাদ্য, বিশেষ দানাদার জাতীয় খাবার বেশী দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জেলা শহরের রাজারবাগান এলাকা খামারি হাফিজুল ইসলাম জানান, এবার তার খামারে কোরবানি ঈদের জন্য ১৬টি গরু প্রস্তুত করেছেন। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে গরু আসা বন্ধ থাকায় লাভের আশা করছেন এই খামারি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এফ এম মান্নান কবীর বলেন, এবছর সাতক্ষীরা জেলায় এবার চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সংখ্যক কোরবানির পশু মজুত রয়েছে। জেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে একলাখ এশহাজারটি এবং তার বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে একলাখ ২০ হাজারটি পশু। ফলে প্রায় ১৯ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত কোরবানির পশুগুলো আশেপাশের জেলায় সরবরাহ করা যেতে পারে।
তিনি আরো জানান, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কোরবানির পশু সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জেলা সদর সহ উপজেলাগুলোতে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা গবাদি পশুর খামারিদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।