শিরোনাম

ঢাকা, ১৭ মে, ২০২৬ (বাসস) : দেশে হাম ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ ও জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত ‘হাম ও ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধই সর্বোত্তম পন্থা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মাতৃদুগ্ধ পান, পুষ্টিকর খাবার, পরিচ্ছন্নতা, আইসোলেশন এবং সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে হাম ও ডেঙ্গু দুই রোগই অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তাই আমাদের চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ ও জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
হামে আক্রান্ত শিশুদের মায়েদের বেশিরভাগ পুষ্টিহীনতায় ভুগছে এবং পুষ্টির ঘাটতি হামে মৃত্যুর অন্যতম কারণ উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের মায়েদের বেশিরভাগ পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। হামে মৃত্যুরও অন্যতম কারণ পুষ্টি ঘাটতি। পুষ্টিহীনতার কারণে শিশুরা হামের সঙ্গে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্তদের সঠিকভাবে আইসোলেশন করতে না পারায় ছড়িয়েছে হাম। নানা সমস্যার কারণে হাম এবার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে জর্জরিত করেছে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগে ধারণা ছিল ছয় থেকে নয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর শরীরে মায়ের দুধের মাধ্যমে ইমিউনিটি থাকে। কিন্তু এখন সেই বয়সি শিশুরাও হাম আক্রান্ত হচ্ছে। এর বড় কারণ অপুষ্টি ও বুকের দুধ না পাওয়া।
হামের ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বেশিরভাগ রোগী হাম থেকে পরে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে হাম ভালো হওয়ার পরও সেকেন্ডারি ইনফেকশন ও নিউমোনিয়ায় মৃত্যু হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের পর দেশে নিয়মিত হাম টিকাদান কার্যক্রমে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। একপর্যায়ে দেশে হামের টিকাও ছিল না। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জরুরি ভিত্তিতে ইউনিসেফ ও গ্যাভির সহায়তায় টিকা সংগ্রহ করা হয়।
হামের মৃত্যুর হার কমে আসছে দাবি করে তিনি বলেন, ৫ এপ্রিল আক্রান্ত ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। পরে চার সিটি করপোরেশনসহ সারা দেশে কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা না পাওয়া শিশুদের খুঁজে বের করা হচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যাও অনেক কমছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রতি শনিবার সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। মশা নিধনে স্প্রে কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধে জোর দিতে হবে। প্রতিরোধে জোড় না দিলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
চিকিৎসকদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিন ধরে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা টেন্ডার, নিয়োগ ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ করছে। ফ্যাসিবাদের দোসররা হেলথ সেক্টরকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করছি। স্বাস্থ্যখাতকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে।
মহাখালী ক্যানসার হাসপাতাল এলাকায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিদেশে বসে ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেছে সরকার।
সেমিনারে হামের বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারহানা হক। সেমিনারে ডেঙ্গু সচেতনতা বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড্যাবের গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. সায়েম।
ড্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনানের সভাপতিত্বে সেমিনারে ড্যাবের সাবেক মহাসচিব এবং সংসদ সদস্য ডা. মো. আব্দুস সালাম, ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা দেশে হাম প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন, মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য প্রচারণা বৃদ্ধি ও স্থানীয় পর্যায়ে ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরামর্শ প্রদান করেন।
তারা বলেন, দেশের ৬১ জেলায় ছড়িয়েছে হাম। আক্রান্ত ও মৃতদের অধিকাংশই ৫ বছরের কম বয়সি। এমন অবস্থায় প্রাদুর্ভাব কমাতে টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন, ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং পিআইসিউ সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।
এ ছাড়া সেমিনারে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রচলিত ফগিং সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন নিয়েও গবেষণার পরামর্শ দেন তারা।