শিরোনাম

ঢাকা, ১৬ মে, ২০২৬ (বাসস) : বগুড়ার শিবগঞ্জে ৪০ বছর পর স্কুলের বেদখলকৃত জমি উদ্ধার করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
আজ শনিবার স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে সেই দখলকৃত জমি উদ্ধার করা হয়েছে।
দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্তত পঁচিশ কোটি টাকা মূল্যের ৪১ শতাংশ জমি দখল করে মার্কেট ও বাসাবাড়ি নির্মাণ করে ভোগদখল করছিল একটি প্রভাবশালী মহল।
অভিযোগ রয়েছে, ওই দখলদারদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুল হকও ছিলেন, যার একার দখলেই ছিল প্রায় ২০ শতক জমি।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি উপেক্ষা করে প্রভাবশালীরা বছরের পর বছর জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণ করে। অবশেষে প্রশাসনের উদ্যোগে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযানে বিদ্যালয়ের দখলকৃত জায়গা উদ্ধার করা হয়।
গত ১১ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত কমিটির সভায় কয়েকজন সদস্য বিষয়টি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির নজরে আনেন।
অভিযোগ শুনে প্রতিমন্ত্রী দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে তদন্তে সরকারি জমি দখলের সত্যতা পাওয়া গেলে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে দখলকৃত জমির ওপর নির্মিত অবৈধ মার্কেট ও বিভিন্ন স্থাপনা অপসারণ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, গত কয়েক মাস আগে স্কুল কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
তিনি বলেন, তদন্ত কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর বেদখলের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হলে প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
পরে, বিধি মোতাবেক বেদখলকারীদের নোটিশ প্রদানের পর আজ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বিদ্যালয়ের জমিটি বেদখলে ছিল। অবশেষে তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, এটি ছিল শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল্যবান সম্পদ।
কিন্তু একটি অসাধু ও প্রভাবশালী মহল জায়গাটি দখল করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করে নিজেদের পকেট ভরেছে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের সম্পদ উদ্ধার করে পুনরায় স্কুলের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন প্রশংসার দাবি রাখে।
শিবগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, আমরা স্কুলের অবৈধ দখলকৃত জায়গাটি উদ্ধারে বহু জায়গায় ধরনা দিয়ে নিরাশ হয়েছি। অবশেষে জায়গাটি উদ্ধার হওয়ায় মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। তিনি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
দীর্ঘদিনের দখলদারির অবসানে বিদ্যালয়ের হারানো সম্পদ ফিরে পাওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।