বাসস
  ১৪ মে ২০২৬, ১৯:০২
আপডেট : ১৪ মে ২০২৬, ১৯:১৩

শরীয়তপুরে কোরবানির জন্য খামারে প্রস্তুত দেড় লক্ষাধিক পশু

ছবি: বাসস

শরীয়তপুর, ১৪ মে, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে শরীয়তপুরে কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে বানিজ্যিক ও পারিবারিক খামারগুলোতে। নিরাপদ খাদ্য ও বিশেষ পরিচর্যায় গরু ছাগল মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার খামারিরা। 

স্থানীয় প্রানিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মানব স্বাস্থ্যের জন্য ঝুকিমুক্ত পশু তৈরি করা হয়েছে শরীয়তপুরে। খামারগুলোতে প্রস্তুতকৃত পশু স্থানীয় কোরবানির চাহিদা মিটিয়েও অন্যান্য জেলার চাহিদা মিটাবে।

জেলার ছোট বড় খামারগুলোতে কোরবানির জন্য প্রস্তুতকৃত গরু, ছাগল ও মহিষ রোগমুক্ত রাখতে প্রতিদিন পশুকে সময়মত গোসল করাসহ সর্বক্ষণ খামার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে। পশুকে খেতে দেয়া হচ্ছে রাসায়নিক মুক্ত দানাদার খাদ্য, এ্যাংকর ভুট্টা, ভুসি ও খৈইলসহ সবুজ ঘাস এবং বিশুদ্ধ পানি।

গরু, মহিষ সুস্থ্য রাখতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করেই নিরাপদভাবে পশু লালন-পালন করে আসছেন খামারিরা। ফলে প্রতিটি পশুর মাংসই মানব স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ বলে বাসস’কে জানান এগ্রো খামারিরা। 

কয়েক বছর ধরে বানিজ্যিকভাবে নতুন নতুন খামার গড়ে উঠায় খামারগুলোতে কাজের সুযোগে বেকারত্ব দূর হয়েছে অনেকের। খামারে কাজ করার সুবাদে সংসার জীবনে স্বচ্ছলতা পাওয়ায় এবং পরিবারকে সামাজিক মর্যাদায় সাজাতে পেরে খুশি তারা।

খামারে কর্মরত শ্রমিকরা বাসস’কে জানান, বেকার জীবনের অভিশাপ থেকে মুক্তি মিলেছে। খামারে কাজ করে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ হয়েছে। বর্তমানে আমাদের সামজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। অভাব অনটন দূর হয়েছে।

শরীয়তপুরে এবছর অনেক খামারেই গরুর পাশাপাশি মহিষ কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছেন খামারিরা। খামারগুলোতে ১ লাখ থেকে শুরু করে ৫ লাখ টাকা দামের নানা আকারের পর্যাপ্ত সংখ্যক গরু প্রস্তুত রয়েছে। আবার কোন কোন খামারে যা ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার বড় গরুও রয়েছে। ভারতীয় গরু না আসলে ব্যবসায় লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন খামারিরা। 

ডিঙ্গামানিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খামার মালিক আজিজ সরদার বাসস’কে বলেন, আমি এবছর গরুর পাশাপাশি মহিষ পালন করছি। আমার খামারে ছোট মাঝারি গরুর পাশাপাশি বড় ৩ টি গরু রয়েছে। বড় গরু ধলা মানিক ২৭ মন। কালো মানিক ২৫ মন আর ডোনাল ট্রাম্পের ওজন ২৬ মন। ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকায় বিক্রির আশা করছি। 

আরেক খামারি বিঝারী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান আলী আহাম্মেদ কাজী বাসস’কে বলেন, তার খামারে শতাধিক গরু আছে। এবার যদি ভারতীয় গরু আমদানি করা না হয়, তাহলে আমরা খামারের গরু সব বিক্রি করতে পারবো এবং আমরা লাভবান হবো। সরকারের কাছে দাবি আমাদের খামারিদের বাচাতে যেন গরু আমদানি বন্ধ রাখে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফারুক হোসেন বাসস’কে বলেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশুর চাহিদা মিটাতে ও খামারিদের লাভবান করতে সরকারি সহায়তা নিয়ে খামারিদের পাশে থেকে কাজ করছেন স্থানীয় প্রাণিসম্পদ বিভাগ। সার্বক্ষণিক তারা বিভিন্ন খামারের গরু ছাগল সুস্থ্য রাখতে চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। হাতে কলমে শিখাচ্ছেন পুষ্টিকর নিরাপদ খাদ্য তৈরির কৌশল। 

তিনি জানান, স্বল্প পরিসরে পরিবারিক ভাবে গড়ে উঠা খামারে লালিত পালিত হচ্ছে ৩ থেকে ৫ টি গরু। আর বানিজ্যিক খামারে লালিত পালিত হচ্ছে ৫ থেকে শতাধিক গরু ও মহিষ। জেলায় পারিবারিক ও বানিজ্যিক ভাবে গড়ে উঠেছে প্রায় ২৫ হাজার খামার। এসব খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে দেড় লক্ষাধিক গরু, ছাগল ও মহিষ। যা শরীয়তপুরের কোরবানির চাহিদা মিটিয়ে আশ পাশের জেলার চাহিদা মিটাতে যোগান দিবে। শরীয়তপুরের ৬ উপজেলায় প্রায় ১ লাখ পশু কোরবানির চাহিদা রয়েছে।