বাসস
  ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:১৮

খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে ত্রিপুরাদের উৎসব বৈসু আর চাকমাদের উৎসব বিজু

জেলায় শুরু হয়েছে ত্রিপুরাদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসু আর চাকমাদের উৎসব বিজু। ছবি : বাসস

জীতেন বড়ুয়া

খাগড়াছড়ি, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : জেলায় শুরু হয়েছে ত্রিপুরাদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসু আর চাকমাদের উৎসব বিজু। 

ত্রিপুরাদের রীতি অনুযায়ী আজ সকালে দেবী গঙ্গার উদ্দেশ্যে ফুল ও হাতে বোনা নতুন কাপড় ভাসিয়ে হারি বৈসু উদযাপন করেন তারা। এর মধ্য দিয়ে পুরনো বছরের বিদায় ও নতুন বছরকে বরণের প্রস্তুতি নেয় তারা। বৈস উৎসব চলবে আগামী তিন দিন। 

অপর দিকে আজ চাকমা জনগোষ্টীর বিজু উৎসবের দ্বিতীয় দিন। অর্থাৎ মূল বিজু। এই দিন ঘরে ঘরে চলে অতিথি আপ্যায়ন। পরিবেশন করা হয় প্রায় ৩০ রকমের সবজি দিয়ে তৈরি বিশেষ পাঁজন। সারাদিন  চাকমাদের ঘরে ঘরে চলবে অতিথি আপ্যায়ন ও ঘুরে বেড়ানো  । অপর দিকে মারমা জনগোষ্টি আগামীকাল থেকে পালন করবে সাংগ্রাই উৎসব । এ উপলক্ষে আজ খাগড়াছড়ি শহরে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বের করা হয়  বর্নাঢ্য র‌্যালী ।

এদিকে আজ সোমবার সকালে জেলা সদরের পল্টনজয় পাড়া এলাকায় ত্রিপুরাদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসু এর আনুষ্টানিক উদ্বোধন করেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা জাকিয়া জান্নাত বিথি। উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক কমল ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদেও চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা।বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এমএন আফছার ।

চৈত্রের ভোরের প্রথম আলোয় দেবী গঙ্গার উদ্দেশ্যে নদীর তীরে ফুল দিয়ে পূজা করার জন্য জড়ো হয় ত্রিপুরা নারীরা। সোমবার  সকালে খাগড়াছড়ির পল্টনজয় এলাকায় নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক রিনা -রিসাই পরে অংশ নেয় এই উৎসবে।  বন থেকে সংগ্রহ করা মাধবীলতা,অলকানন্দ,জবাসহ বিভিন্ন ধরেন ফুল দিয়ে  পুরাতন বছরের দুঃখ গ্লানি মুছে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে দেবী গঙ্গার উদ্দেশ্যে পূজা করেন তারা। এসময় নিজেরদের হাতে বোনা ছোট্ট কাপড় ভাসানো হয় জলে।  ত্রিপুরা পঞ্জিকা অনুসারে চৈত্রের মাসের ২৯ তারিখে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। ফুল ভাসানোর ঐ উৎসবের অংশ নিতে পেরে খুশি ত্রিপুরা নারীরা। এদিকে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের এই উৎসব দেখতে পর্যটকরাও যোগ দিয়েছে। এমন বর্ণিল আয়োজন দেখে মুগ্ধ তারা।

আয়োজক  কমিটির আহ্বায়ক কমল ত্রিপুরার  জানান , মূলত নারীদের অংশগ্রহণের  নতুন বছর বরণের উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ‘নতুন বছরে তাদের নিজস্ব পোশাক  রিনা রিসাই বুননে যাতে  দক্ষতা আরো নিপুণতা আসে সেজন্যই ফুলের সঙ্গে ভাসানো হয় হাতের বোনা ছোট্ট কাপড়।