শিরোনাম

কুমিল্লা, ১ জুন, ২০২৬ (বাসস) : ‘যেখানে মাদক, সেখানেই প্রতিরোধ’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে স্থানীয় তরুণ ও যুব সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত রাখার প্রত্যয়ে এবং মাদক-সন্ত্রাস নির্মূল, ইভটিজিং ও কিশোর অপরাধ দমনে গণসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় ‘করপাটি-বৈলপুর গ্রামের সচেতন নাগরিক সমাজের উদ্যোগে হাজী মনির উদ্দিন আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ে আয়োজিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. আহসান হাবীব বেপারী এবং সভা পরিচালনা করেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ব্যবসায়ী কাজী মো. ইমতিয়াজ উদ্দিন।
কনকাপৈত ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মুহাম্মদ হাছান মজুমদার, সিনিয়র সাংবাদিক এম. মোশাররফ হোসাইন, কনকাপৈত ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি কাজী মহিন উদ্দীন নয়ন, চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রেজাউল করিম, কনকাপৈত ইউনিয়ন বিএনপি’র সহ-সভাপতি মো. আবুল কাশেম, ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মো. বেলায়েত হোসেন, বিশিষ্ট ব্যাংকার কাজী মামুনুর রশিদ, সমাজসেবক ডা. মো. তাজুল ইসলাম, সাংবাদিক মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, প্রবাসী মো. ইমাম হোসেন পাটোয়ারী, কাজী মোহাম্মদ অপু, আয়কর আইনজীবি আবদুর রাজ্জাক, প্রবাসী আব্দুল হালিম পাটোয়ারী ও সমাজসেবক সাঈদুর রহমান মোল্লা সমাবেশে বক্তৃতা দেন।
বক্তারা বলেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ কাঠামোকে ধ্বংস করে দেয়। তাই এর বিরুদ্ধে লড়াইকে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। মাদকবিরোধী আন্দোলন সফল করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
তারা আরও বলেন, তরুণ সমাজই জাতির মূল শক্তি ও ভবিষ্যৎ। তাদের মাদকের ভয়াবহ প্রভাব থেকে রক্ষা করতে শিক্ষা, খেলাধুলা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। একটি মাদকমুক্ত তরুণ সমাজই একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়তে পারে।
বক্তারা প্রতিটি ঘর, এলাকা ও গ্রামে মাদকবিরোধী সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদক চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং যারা এ পথ থেকে ফিরে আসতে চায় তাদের পুনর্বাসনে সহযোগিতা করতে হবে।
এ সময় সভায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের অংশ হিসেবে এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের তালিকা প্রণয়ন করে ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও তাদেরকে এ পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি সংশোধন না হলে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করা হয়।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, মাদক কারবারিদের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিচিতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হবে। যারা মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আগ্রহী, তাদের পুনর্বাসন, বিদেশ গমনসহ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাবও গৃহীত হয়।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা, মাদক-সন্ত্রাস নির্মূল, ইভটিজিং ও কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মসজিদ ও পাড়া-মহল্লাভিত্তিক সভা-সেমিনার আয়োজন এবং লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে গণসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সমাবেশে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের সর্বসম্মতিক্রমে মো. আহসান হাবীব বেপারীকে আহ্বায়ক এবং কাজী মহিন উদ্দীন নয়নকে সদস্য সচিব করে উভয় গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে একটি মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, কাজী মো. ইলিয়াছ, এম. মোশাররফ হোসাইন, কাজী মো. বশির আহমেদ, রেজাউল করিম, মো. আবুল কাশেম, কাজী মামুনুর রশিদ, বেলায়েত হোসেন, ডা. তাজুল ইসলাম, কাজী মো. হারুনুর রশিদ, কাজী আব্দুল মালেক, মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, কাজী ইমতিয়াজ উদ্দিন, আলমগীর হোসেন, মাকসুদুর রহমান, কাজী অপু, মাওলানা মো. বেলাল হোসেন, কাজী আব্দুল হান্নান নয়ন, সাদ্দাম হোসেন, কাজী সোহাগ, সাদেক হোসাইন, মো. রুবেল, আসাদুজ্জামান তন্ময় প্রমুখ।