বাসস
  ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৭:০৬

নাটোরে ময়না যুদ্ধ দিবস পালিত

নাটোরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ময়না যুদ্ধ দিবস উপলক্ষে আজ ময়না স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ছবি : বাসস

নাটোর, ৩০ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : নাটোরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ময়না যুদ্ধ দিবস আজ। দিবসটি উপলক্ষে আজ সোমবার ময়না স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

স্মরণ সভায় বক্তারা বলেন, ময়না যুদ্ধের গৌরব স্বাধীনতার ইতিহাসে চিরদিন অমর হয়ে থাকবে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এই ইতিহাস আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগাবে।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবির হোসেন আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। লালপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনার রশীদ পাপ্পুর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন শহীদ পরিবারের সন্তান অধ্যাপক ইদ্রিস আলী মোল্লা এবং অধ্যাপক এ কে এম আব্দুস সবুর।

উল্লেখ্য, একাত্তরের ২৫ মার্চ ঢাকায় অপারেশন সার্চ লাইট শুরু হওয়ার পর পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীকে সারাদেশে মোতায়েন শুরু করা হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ২৫ রেজিমেন্টের একটি দল ঢাকা থেকে রাজশাহী সেনানিবাসে যাওয়ার পথে নাটোর ও পাবনার সীমান্ত এলাকার মুলাডুলিতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে। 

ছত্রভঙ্গ হয়ে রেজিমেন্টের সাতটি গাড়ি বহর নাটোরের লালপুর উপজেলার ময়না গ্রামে ঢুকে পড়ে। সর্বস্তরের মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই অসম যুদ্ধে শহীদ হন অন্তত ৪০ জন। পড়ে জনসাধারণের গড়ে তোলা প্রাণপণ প্রতিরোধে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় পাকিস্তান হানাদার বাহিনী। 

ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যাওয়ার পথে পাকিস্তান সেনাদের মধ্যে মেজর খাদেম হোসেন রাজা সহ সাতজন ধরা পড়েন। উত্তেজিত জনতা তাদের পিটিয়ে হত্যা করেন। একাত্তরের ৩০ মার্চ ময়না গ্রামের এই যুদ্ধই নাটোরের প্রথম প্রতিরোধ এবং একমাত্র সরাসরি যুদ্ধ।