শিরোনাম

ঢাকা, ৭ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে শুরু হয়েছে রাজধানীর মহাখালীতে শ্রী শ্রী রক্ষাকালী মন্দির ও শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের সংস্কার কাজ।
আজ সকালে মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের সামনে এ দু’টি মন্দিরের সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন।
মহাখালী এলাকাটি ঢাকা-১৭ আসনের আওতাধীন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মন্দিরটি সংস্কার ও মন্দির প্রাঙ্গণে একটি নতুন নাট্যমন্দির নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি ওই আসনে নির্বাচনে জয় পেয়ে সরকার গঠনের এক মাস না পেরোতেই মন্দিরের কাজের উদ্বোধন করে সিটি করপোরেশন। এ সংস্কার কাজে অর্থায়ন করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।
এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণকে যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন, সেই অঙ্গীকারকে যতক্ষণ পর্যন্ত বাস্তবায়ন না করতে পারেন ততক্ষণ পর্যন্ত উনি এই বিষয় নিয়ে খুব বিচলিত থাকেন।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত এই মন্দিরের সংস্কার কাজ উদ্বোধনের জন্য আজকে আমরা এসেছি, আজ থেকেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। নৈতিক জায়গা থেকে, আমাদের কাছে কোনো ধর্ম-বর্ণ বিন্যাসে কোনো ধরনের, আমাদের কোনো পার্থক্য নেই। যার যার ধর্ম সে পালন করবেন। আমরা আপনাদেরকে সহযোগিতা করব।’
ডিএনসিসি প্রশাসক আরো বলেন, ‘এই বাংলাদেশে যার যার ধর্ম সে পালন করবে। আমরা সবসময় আপনাদের পাশে থাকবো। নির্ভয়ে আপনাদের ধর্ম আপনারা পালন করে যাবেন। যে কোনো বিষয়ে জানাবেন, আমাদের স্থানীয় নেতৃবৃন্দরাও যদি কোনো কারণে আপনাদের প্রতি কোনো অন্যায় করে কিংবা বহিরাগত কিংবা আশেপাশের কেউ করে, সেই বিষয়টুকু আমাদেরকে জানাবেন।’
তিনি বলেন, ‘অনেকে বলতো যে, বিএনপি এই করবে, ওই করবে। এখন আপনারা কি স্বস্তিতে আছেন না? উগ্রবাদী, মৌলবাদী যারা আছে, তারা যদি আজকে কোনো কারণে এখানে এমপি হতো, কিংবা প্রতিনিধি থাকতো তাহলে অবস্থাটা কী হতো আপনাদের? বলেন? একবার চিন্তা করেন?’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, আমরা সকল ধর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। ভালো করে বলতে পারি, বিএনপি কিন্তু কখনো আপনাদের সংখ্যালঘুও বলেনি, আপনাদের ওপর কোনো অত্যাচার নিপীড়ন নির্যাতন হোক, এটা বিএনপি কখনোই অ্যালাউ করেনি, সাহায্য করেনি, কাউকে উৎসাহিতও করেনি।
কারণ, আমরা জানি— আমরা চাই এই দেশটা আমাদের সবার।
তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটা প্ল্যান আছে, তিনি যে সমস্ত কাজ করতে চান, যদি সেগুলো আল্লাহর রহমতে তিনি করতে পারেন, তাহলে দেখবেন সবকিছুর চেহারা পাল্টে গেছে। কিছু কিছু লোক আছে, এখন থেকে খোঁচাচ্ছে— কীভাবে আবার দেশটাকে অস্থির করা যায়। তাদের পাল্লায় কি পা দেওয়া যাবে? পা দেওয়া যাবে না। মাত্র সরকার আসছে, সময় দেন দুই বছর, তিন বছর সময় দেন। তারপর যদি মানুষের জন্য বিএনপি কাজ না করতে পারে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি কাজ না করতে পারে, তারপর আপনারা সমালোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ফরহাদ ডালিম ডোনার ও বিজন কান্তি সরকার, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালক তপন মজুমদার, গুলশান-বনানী পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি জে এল ভৌমিক।