শিরোনাম

রাজশাহী, ৭ মার্চ ২০২৬ (বাসস) : রাজশাহীর জ্বালানি তেলের বাজারে হঠাৎ করেই শুরু হয়েছে চরম অস্থিরতা। তেলের সংকট দেখা দিতে পারে—এমন গুজব আর সরবরাহে ঘাটতির খবরে পাম্পগুলোতে ভিড় করছেন হাজারো মানুষ।
তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের মাঝে শুরু হয়েছে হুড়োহুড়ি। তবে অভিযোগ উঠেছে, এই সুযোগে পাম্প মালিকরা প্রশাসনের কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছেন না। অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় সাধারণ গ্রাহকদের জিম্মি করে ফেলা হয়েছে। মোটরসাইকেলে ৩০০ টাকার তেল দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ১০০ বা ২০০ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে রাজশাহী মহানগরীর কুমারপাড়ায় অবস্থিত গুলগোফুর, শালবাগান, আলুপট্টি, তালাইমারী, ভদ্রা, নওদাপাড়া এবং আমচত্বর এলাকার বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি পাম্পের সামনে শত শত মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ লাইন। লাইনের শৃঙ্খলা রক্ষায় পাম্প কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ না থাকায় সেখানে রীতিমতো হুড়োহুড়ি ও ঝগড়া-বিবাদ চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু কিছু এলাকায় পুলিশের হস্তক্ষেপ করতে দেখা গেছে।
আজ শনিবার সকাল থেকে শালবাগানে অবস্থিত পাম্পটি তেল বিক্রি করেনি।
সরকারিভাবে জ্বালানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা থাকলেও রাজশাহীর পাম্পগুলো তা মানছে না।
অভিযোগ রয়েছে, খুচরা গ্রাহকদের কাছ থেকে লিটার প্রতি ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেশি দাম রাখা হচ্ছে। তেলের অভাবের সুযোগ নিয়ে ‘সার্ভিস চার্জ’ বা অন্যান্য অজুহাতে এই অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন চালকরা।
শালবাগান মোড় এলাকার মোটরসাইকেল চালক সোহাগ বলেন, "আমি দুই ঘণ্টা ধরে লাইনে আছি। কিন্তু পাম্পের লোকেরা বলছে তেল শেষ। অথচ একটু আগেই দেখলাম বড় বড় ড্রামে তেল ভরে ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এখানে সাধারণ মানুষের কোনো দাম নেই। গতকাল শুক্রবার রাতে কুমারপাড়া, আলুপট্টি মোড়ে তেল বিক্রি বন্ধ করে দেয় পাম্প মালিকরা। শুধু ওই দুটিতেই প্রায় অনেক পাম্পেই এমন ঘটনা ঘটেছে।
পেশাজীবীরা বলছেন, তেলের এই অরাজকতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গণপরিবহন ও জরুরি সেবার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা। তেলের জন্য দীর্ঘ সময় নষ্ট হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
রাজশাহী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলায় তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কোনো পাম্প মালিক যদি কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন বা নিয়ম না মেনে তেল বিক্রি করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে না আনলে রাজশাহীর অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার বাসসকে বলেন, তেল নিয়ে অরাজকতা করার সুযোগ নেই। সবকিছু স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।