বাসস
  ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৭:১৭

বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে যথাযথ বিবেচনার আশ্বাস যুক্তরাজ্যের

ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ঢাকা, ৩ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থীর যোগ্যতার বিষয়টিকে নিজ দপ্তরে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। 
ঢাকার প্রার্থিতাকে যুক্তরাজ্য যথাযথভাবে বিবেচনা করবে বলেও আজ আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সারাহ কুক এ প্রতিশ্রুতি দেন।

মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের পার্লামেন্টারি আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট ফর ইন্দো-প্যাসিফিক সীমা মালহোত্রাকে পাঠানোর জন্য যুক্তরাজ্যকে ধন্যবাদ জানান।

এ সময় উভয় পক্ষ দুই দেশের গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক, দৃঢ় জনসম্পর্ক এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায়কে নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই প্রবাসীরা দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

দুই নেতা শিক্ষা, অভিবাসন, নিরাপত্তা সহযোগিতা, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র অনুসন্ধান নিয়ে আলোচনা করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরামে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্ব অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

তিনি ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি লন্ডনের সমর্থনও কামনা করেন।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার আশ্বাস দেন যে, তিনি বাংলাদেশের প্রার্থীর যোগ্যতার বিষয়টিকে যুক্তরাজ্যের সদর দপ্তরে তুলে ধরবেন এবং প্রার্থিতাকে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সারাহ কুক বলেন, ‘আমি মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত ভালো একটি বৈঠক করেছি। তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি এবং যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বের গভীরতা ও দৃঢ়তা পুনর্ব্যক্ত করেছি।’

তিনি জানান, বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সারাহ কুক বলেন, ‘আমাদের অভিন্ন অগ্রাধিকারের সমর্থনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অভিবাসন, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা ইস্যুসহ নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেছি।’

দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সারাহ কুক আরো বলেন, ‘আপনারা জানেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব রয়েছে এবং দেশটির এই নতুন অধ্যায়ে আমরা ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।’

এর আগে দিনের শুরুতে হাইকমিশনার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন এবং দক্ষতা উন্নয়ন, অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেন।

উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।