শিরোনাম

কায়রো, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): মিশরের কায়রোতে বাংলাদেশ দূতাবাসে গতকাল (শনিবার) যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে।
একুশের প্রথম প্রহরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।
রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে অর্ধনমিত করেন।
দূতাবাসের সম্মেলন কেন্দ্রে পবিত্র কোরআন থেকে তিলওয়াত এবং ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।
এরপর দিবসটি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা এবং পরবর্তীতে ইউনেস্কোর জেনারেল কনফারেন্স প্রেসিডেন্টের ভিডিও বার্তা প্রদর্শিত হয়।
আলোচনা সভায় রাষ্ট্রদূত ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী সকল ভাষা শহীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন।
দিবসের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি কেবল বাংলা ভাষাকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করার সংগ্রাম নয়, একই সঙ্গে আত্মসচেতনা সমৃদ্ধ জাতীয় জাগরণে অনুপ্রেরণার উৎসও।
সামিনা নাজ আরও বলেন, আমাদের শহীদ দিবস শুধু আমাদেরই নয় এটি আন্তর্জাতিক দিবসও। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিক সংস্থা (ইউনেস্কো) এটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেওয়ায় সারা বিশ্বে মাতৃভাষা সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে।
জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠাই ছিল একুশের মূল চেতনা। এ চেতনা ধারণ করেই দেশে আজ গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৭১-এ স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আহতদের সম্মান জানান রাষ্ট্রদূত।
তিনি বলেন, আমাদের অন্যতম দায়িত্ব শুদ্ধভাবে বাংলা ভাষার চর্চা করা এবং পৃথিবীর পরিমণ্ডলে সার্বিকভাবে এই ভাষাকে তুলে ধরা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মিসরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বাংলাদেশি শিক্ষক, আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা, মিসরে বসবাসরত প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী, পেশাজীবী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।