শিরোনাম

ঢাকা, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের বর্তমান গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থা বেকারত্ব বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলছে।
তিনি বলেন, এই ধারা পরিবর্তন করে, শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে কর্মমুখী, দক্ষতাভিত্তিক ও যুগোপযোগী করা হবে।
আজ শনিবার রাজধানীর মিরপুরে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
গণশিক্ষা মন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা বেকারত্ব বাড়ানোর জন্য নয়, বরং তা দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির হাতিয়ার। কর্মমুখী শিক্ষার বিস্তার এখনও প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত।’
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের দক্ষ, কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল হিসেবে গড়ে তুলতে, শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে।
ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, নতুন প্রতিষ্ঠান বা বিষয় চালুর ক্ষেত্রে বাজারের বাস্তব চাহিদা ও উপযোগিতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে।
মাতৃভাষার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলা আমাদের চিন্তা ও অনুভূতির প্রধান বাহন। তবে বিশ্বায়নের যুগে টিকে থাকতে হলে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি শিখার মাধ্যমে ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানো অপরিহার্য। পাশাপাশি দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষাসমূহ সংরক্ষণ ও বিকাশে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের সব দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। আগামী পাঁচ বছর কোনো প্রকার দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া হবে না।’
প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনটি মূল স্তম্ভ— কারিকুলাম, ক্লাসরুম ও কনসিস্টেন্সি (সামঞ্জস্য)-এর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যে মানগত সমন্বয় নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।