বাসস
  ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:০১
আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:১৪

শহীদ দিবসে বাংলাদেশ-আলজেরিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ

ছবি: দূতাবাস

ঢাকা, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): ঢাকায় আলজেরিয়া দূতাবাস আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় দেশটির জাতীয় শহীদ দিবস পালন করেছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা ত্যাগের অভিন্ন ইতিহাসের কথা তুলে ধরে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার দৃঢ় দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আলজেরিয়ার জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় এবং ঐতিহাসিক এ দিবসের তাৎপর্য ও আলজেরিয়ার মুক্তিযুদ্ধের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. আবদেলওয়াহাব সাইদানি। তিনি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং ন্যায়বিচার, মানব মর্যাদা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রশ্নে তাদের অবিচল অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করেন।

দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য  ‘ফেইথফুল টু দ্য মার্টার্স প্যাক্ট’ (শহীদদের অঙ্গীকারের প্রতি বিশ্বস্ত) উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি শুধু শহীদদের স্মরণ নয়; বরং জাতীয় ঐক্য, উন্নয়ন এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয়ের মাধ্যমে তাদের আদর্শ ধারণ করার আহ্বান।

রাষ্ট্রদূত আলজেরিয়ার ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতার ঐতিহাসিক যাত্রাপথের কথা তুলে ধরে বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ আজও দেশটির অগ্রগতি ও মর্যাদা রক্ষায় নৈতিক দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করছে।

তিনি আরও স্মরণ করেন, ১৯৫৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ আলজেরিয়ার আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃতি দেয়, যা দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল।

অভিন্ন মূল্যবোধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের শহীদদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, দুই দেশের ত্যাগের ইতিহাস বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতা জোরদারে শক্ত ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

অনুষ্ঠানটি শহীদদের আদর্শ সমুন্নত রাখা এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।