শিরোনাম

ঝালকাঠি, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ও নীতিনির্ভর রাজনীতির চর্চা জোরদারে ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নির্বাচনী সৌহার্দ্যের সংলাপ’।
ঝালকাঠি মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (এমএএফ) ও ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের যৌথ আয়োজনে আজ শনিবার দুপুরে শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঝালকাঠি-২ আসনের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সরাসরি মতবিনিময়, পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী ও পেশাজীবী শ্রেণির সমস্যা তুলে ধরা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এ সংলাপের আয়োজন করা হয়। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করা এবং সহিংসতা ও বৈরিতার বদলে যুক্তিভিত্তিক রাজনৈতিক আলোচনা প্রতিষ্ঠা করাই ছিল মূল লক্ষ্য।
ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আককাস সিকদার এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের উপপরিচালক দিপু হাফিজুর রহমান অনুষ্ঠিত সংলাপের বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, প্রেসক্লাব সভাপতি মো. আককাস সিকদার। এডভোকেসি ফোরামের আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
এসময় সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার প্রতিনিধিদের আগে থেকে রেকর্ড করা পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন প্রার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়, যেখানে প্রশ্নকারীরাও সরাসরি উপস্থিত ছিলেন এবং মঞ্চে তাদের রেকর্ড করা বক্তব্যের ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।
সংলাপে বক্তব্য দেন, বিএনপি প্রার্থীর প্রতিনিধি রেজাউল হক আজিম, এনসিপির আহ্বায়ক মাইনুল ইসলাম মান্না, সিপিবির প্রশান্ত দাস হরি, প্রেসক্লাবের সহসভাপতি জিয়াউল হাসান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক আসম মাহমুদুর রহমান পারভেজ, নির্বাহী সদস্য আজমীর হোসেন তালুকদার ও সাবেক ভারপ্রপ্ত সভাপতি আল আমিন তালুকদার।
সংলাপে বিএনপি প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোর প্রতিনিধি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট সৈয়দ হোসেন, জামায়াতে ইসলামী ও ১০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম এবং গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মাহমুদুল ইসলাম সাগর অংশ নেন।
সংলাপে অংশ নেওয়া ঝালকাঠি-২ আসনের প্রার্থীরা বলেন, নির্বাচিত হলে এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে বরাদ্দ বাড়ানো হবে। আধুনিক হাসপাতাল ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তারা।
প্রার্থীরা আরও বলেন, স্থানীয় শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালুর অঙ্গীকার করেন তারা। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা, বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর কথাও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকরা জানান, এ ধরনের সংলাপ নির্বাচনী পরিবেশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।