বাসস
  ১০ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫৫

‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ ব্যবস্থা চালু করাই সরকারের লক্ষ্য : এম জাহিদ

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন মঙ্গলবার রাজধানীর টিএন্ডটি খেলার মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ১০ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ ব্যবস্থা চালু করাই সরকারের লক্ষ্য। 

তিনি আরও বলেন, জনবান্ধব এ কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনসহ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বিভিন্ন সূচক অর্জনে কাজ করা হচ্ছে। দেশের ১৪টি স্থানে এই কার্যক্রমের পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডিজিটাল ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গেই ৩৭ হাজার ৫৬৭টি সুবিধাভোগী পরিবারের কাছে আড়াই হাজার টাকা করে পৌঁছে গেছে। 

আজ (মঙ্গলবার) বেলা ১১টা ১৮ মিনিটে রাজধানীর টিএন্ডটি খেলার মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এ জেড এম জাহিদ এসব কথা বলেন।

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থার বড় বৈশিষ্ট্য হল, এটি একটি সর্বজনীন বা ইউনিভার্সাল ব্যবস্থা। এখানে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করা হবে না; বরং বাংলাদেশের নাগরিক পরিচয়ই হবে প্রধান ভিত্তি।’ 

জাহিদ হোসেন আরও বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৯৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলো একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে, যাতে দলীয় বিবেচনায় কার্ড দেওয়ার মত অতীতের অনিয়ম আর না থাকে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সেবা পান।
তিনি বলেন, সবাই কার্ড পেলেও সবাই আর্থিক সুবিধাভোগী হবেন না। কার্ডে কিউআর কোড থাকবে এবং যেসব নাগরিক স্বচ্ছল বা উচ্চবিত্ত, তারা চাইলে তাদের কার্ডের অর্থ রাষ্ট্রকে দান করতে পারবেন, যা দরিদ্র মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একজন নাগরিকের বিভিন্ন সরকারি সেবা এই কার্ডের মাধ্যমে নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, এই কর্মসূচির পেছনে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি রয়েছে এবং এটি কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নয়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নারীশিক্ষা ও ক্ষমতায়নের যে পথ তৈরি করেছিলেন, বর্তমান সরকার সেই ধারাকেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে তিনি মাঠ পর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং দেশের কল্যাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।