শিরোনাম

নড়াইল, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): চলতি মওসুমে জেলায় শীতকালীন শাকসবজির বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জেলার তিন উপজেলায় ৩ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাকসবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। চলতি মওসুমের শুরু থেকেই শীতকালীন শাকসবজির দাম ভালো পাওয়ায় খুশি চাষিরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিপু মজুমদার জানান, চলতি মওসুমে ফুলকপি, পাতাকপি, লাউ, শিম, বেগুন, পালংশাক, টমেটো, বাঁধাকপি, মুলা, ব্রকলি, উচ্ছে, বরবটি, লালশাক, সবুজ শাক, শসা, কুমড়াসহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন শাকসবজির বাজার মূল্য বেশি থাকায় লাভবান হচ্ছেন কৃষক-কৃষাণিরা।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ফুলকপি ৫০-৬০ টাকা দরে, পাতাকপি প্রতি কেজি ৩০ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ৬০-৭০ টাকা, শিম প্রতি কেজি ৪০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা, উচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ টাকা, লালশাক ও সবুজ শাক প্রতি কেজি ৬০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৭০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং পালং শাক প্রতি কেজি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মওসুমে জেলার ৩ উপজেলায় মোট ৩ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাকসবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। এর মধ্যে নড়াইল সদর উপজেলায় ১ হাজার ২শত ৮৫ হেক্টর জমিতে, লোহাগড়া উপজেলায় ৬শত ৯৫ হেক্টর জমিতে এবং কালিয়া উপজেলায় ১ হাজার ১শত ৬০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাকসবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন উপজেলায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৪ হাজার ৭৩ মেট্রিক টন।
নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, জেলার ৩ উপজেলায় শীতকালীন শাকসবজির চাহিদা মেটাতে চাষ উপযোগী জমিতে সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের প্রণোদনা প্রদানসহ সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। অল্প জমিতে অধিক সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা।
তিনি বলেন,কৃষকদের আগ্রহ এবং কৃষি বিভাগের সহায়তায় চলতি মওসুমে এ জেলায় শীতকালীন শাকসবজির বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। ভালো মানের বীজ সরবরাহ, সেচ, সার ও কীটনাশকের কোনো ঘাটতি নেই। কৃষকরা শীতকালীন শাকসবজি চাষে অধিক মনোযোগী হয়েছেন বলেও তিনি জানান।