বাসস
  ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫৬

চট্টগ্রামে মাসব্যাপী চতুর্থ ফুল উৎসবের উদ্বোধন

শুক্রবার সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মাসব্যাপী এ উৎসবের উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এহছানুল হক। ছবি: বাসস

চট্টগ্রাম, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ফুলে ফুলে ছেয়ে আছে চট্টগ্রামের ডিসি পার্ক। শুরু হয়েছে মাসব্যাপী ফুল উৎসব। জলাধারের চারপাশে লাল-সাদা-হলুদসহ হরেক রঙের ফুল দোল খাচ্ছে পৌষের বাতাসে। সেসব ফুলের রং আর গন্ধে মাতোয়ারা চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের ডিসি পার্ক। এবার এটি পার্কের চতুর্থ ফুল উৎসব; যা শেষ হবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি।

অন্যান্য বছরের মতো এবারও উৎসবে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল প্রদর্শিত হচ্ছে। আয়োজকদের তথ্য মতে, মাসব্যাপী এ আয়োজনে রয়েছে দেশি-বিদেশি প্রায় ১৪০ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুলের সমারোহ। এবারের উৎসবে ব্যতিক্রমি আয়োজন হিসেবে রাখা হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ এর প্রচারণার একটি বিশেষ স্টল।
 
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মাসব্যাপী এ উৎসবের উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এহছানুল হক।
 
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ, ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক বলেন, ডিসি পার্কের ফুল উৎসব শুধু চট্টগ্রামের জন্য নয়, বরং সারাদেশের মানুষের জন্য আনন্দের বিষয়। দেশের অন্যান্য জেলার মানুষও ডিসি পার্কে এসে নির্মল আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগ দেশের অন্যান্য জেলার জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

পুরো পার্ক জুড়ে রঙিন ফুলে সাজানো হয়েছে নানা ফুলের ভাস্কর্য, থিম ও ল্যান্ড স্ক্যাপ। দেশি-বিদেশি ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে পার্কের প্রতিটি কর্নার। হাটার পথের পাশেও আছে ফুলের সমাহার। পার্কে রাখা হয়েছে ছবি তোলার জন্য আলাদা আলাদা কর্ণার।
 
জেলা প্রশাসন জানায়, এই উৎসবে মাসব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মাল্টি কালচারাল ফেস্টিভ্যাল, মাসব্যাপী গ্রামীণমেলা, বই উৎসব, ঘুড়ি উৎসব, ফুলের সাজে একদিন, পিঠা উৎসব, লেজার লাইট শো, ভিআর গেইম, ভায়োলিন শো, মুভি শো, পুতুল নাচসহ নানা রকমের আয়োজন রাখা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে বসবাসরত ১৬টি দেশের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ সংস্কৃতি নিয়ে অংশ নেবেন। ত্ছাড়া দেশের যে ঐতিহব্যাহী উৎসবগুলো আছে সেগুলোও থাকবে।
 
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, মাসব্যাপী এই উৎসবে ২০ লাখ দর্শনার্থীর আগমন ঘটবে বলে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের স্মৃতি ধরে রাখতে পেশাদার ফটোগ্রাফার এবং ভিড় সামলাতে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবীর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পার্কের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে বিনোদন উপকরণ এবং পূর্ব পাড়ে খাবারের স্টল ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফুল উৎসব। দর্শনার্থীদের বিপুল চাহিদার কথা মাথায় রেখে প্রতিবছরই নতুন নতুন থিম যুক্ত করা হচ্ছে। এ উৎসবে প্রতিদিন বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণিপেশার প্রায় অর্ধ লক্ষ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে।
 
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম শহরের কাছেই বন্দর লিংক রোডের ফৌজদারহাট অংশে এ জায়গাটি এক সময় ছিল মাদকসেবীদের অভয়ারণ্য। ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডের সলিমপুরে ১৯৪ দশমিক ১৮ একর খাস জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করে জেলা প্রশাসন। অভিযানের সময় ওই খাস জমিতে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁসহ প্রায় ১০০ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এরপর সেখানে গড়ে তোলা হয় পার্ক। যার নামকরণ করা হয় ‘ডিসি পার্ক’। পার্ক করার পর আয়োজন করা হয় ফুল উৎসবের। এরই মধ্যে পার্কটি নগরবাসীর বিনোদন ও আগ্রহের জায়গায় পরিণত হয়েছে। এবার শুরু হয়েছে মাসব্যাপী চতুর্থ ফুল উৎসব।