শিরোনাম

মো. মানিকুল আজাদ
ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : নতুন এক রাজনৈতিক অধ্যায়ে পদার্পণ করেছে বাংলাদেশ। বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করেছে বিএনপি। দলটির এই বিজয়ের কান্ডারী তারেক রহমান আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এর আগে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন।
দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের অগ্রসেনানী হিসেবে পরিচিত তারেক রহমান গত প্রায় দুই দশক ধরে লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে থেকেও অত্যন্ত দূরদর্শী ও উদ্ভাবনী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।
দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ এবং তা সুচারুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর যে পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে, তা এখন আরও স্পষ্ট। বিশেষ করে বৃহত্তর জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠা এবং দেশের গণতন্ত্রের গতিপথ সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে তাঁর জোরালো ও গতিশীল তৎপরতা সেই সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ।
রাজনৈতিক লড়াইয়ের অংশ হিসেবে তিনি নিজেকে দেশের ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থাপন করেছেন। তিনি বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জামায়াতের নির্বাচনী মিত্র ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
২০০৮ সাল থেকে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করলেও নিজের প্রজ্ঞাসম্পন্ন নেতৃত্বের মাধ্যমে তারেক রহমান কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি নিজেকে নিয়ে এসেছেন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।
গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরলে তাঁকে এক বিশাল গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। এর মাত্র কয়েক দিন পর ৩০ ডিসেম্বর তাঁর মা, মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির দীর্ঘদিনের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। তাঁর প্রয়াণের পর দলটির পক্ষ থেকে তারেক রহমানের ওপর চেয়ারম্যানের গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়।
আর গত বৃহস্পতিবারের (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলকে এক ঐতিহাসিক বিজয় এনে দিয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন তারেক রহমান।
স্বল্পভাষী অথচ দৃঢ়প্রত্যয়ী এই নেতা দেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছেন। প্রতিহিংসা আর প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে তিনি জাতীয় ঐক্য এবং সমঝোতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নির্বাচনের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমাদের পথ ও মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমাদের এক থাকতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি, আর বিভাজনই আমাদের দুর্বলতা।’
তারেক রহমানের শৈশব ও কৈশোর-
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। দেশের গণতন্ত্র আর স্বাধীনতার লড়াইয়ের সেই উত্তাল দিনগুলোতে ঢাকায় তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে।
এ দেশের রাজনীতির নানা চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী তারেক রহমান। এমনকি মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেও মা ও প্রয়াত ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর সঙ্গে তিনি কারাবন্দি ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে তিনি ছিলেন অন্যতম কনিষ্ঠ রাজনৈতিক বন্দি।
তাঁর পিতা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর নিশ্চিত ক্যারিয়ার ছেড়ে দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন শীর্ষ সামরিক নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন।
শিক্ষা জীবন-
তারেক রহমান ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে মাধ্যমিক এবং আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৮৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন; প্রথমে আইন বিভাগ এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াশোনা করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা জন্মগত। তিনি দেখেছেন সত্তরের দশকের শেষের দিকে কীভাবে তাঁর বাবা রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেশ পরিচালনা করেছেন এবং বিএনপি গঠন করেছেন। তখন থেকেই রাজনীতির খুব কাছ থেকে বেড়ে উঠেছেন তিনি।
একইভাবে আশির দশকের পুরোটা সময়জুড়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর মায়ের আপসহীন নেতৃত্ব এবং সেই উত্তাল সংগ্রামের পর ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিশাল জয় তারেক রহমান খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সেই বিজয়ের মধ্য দিয়েই বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই তারেক রহমান সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হন। তখন থেকেই তৃণমূলের সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশার মাধ্যমে তিনি রাজনীতির হাতেখড়ি ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
তাঁর শিক্ষা জীবনে তিনি সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিস্টটল, হবস, লক, রুশো, ভলতেয়ার এবং কার্ল মার্কসের মতো বিশ্বখ্যাত রাজনৈতিক দার্শনিকদের কাজের সঙ্গে পরিচিত হন, যা তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারাকে সমৃদ্ধ করেছে।
পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে নিজ জেলা বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতি শুরু করেন।
আলোচনায় আসা ও সাংগঠনিক দক্ষতা-
১৯৯১ সালের নির্বাচনে মায়ের সঙ্গে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে তারেক রহমান দেশবাসীর নজরে আসেন।
পরবর্তীতে তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে তিনি এক অভিনব ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। জেলা পর্যায়ে দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি চালু করেন, যা ছিল অত্যন্ত আধুনিক ও গণতান্ত্রিক।
২০০১ সালে তিনি রাজধানীতে একটি কার্যালয় গড়ে তোলেন, সেখান থেকে বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সুশাসন এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ওপর গবেষণা চালানো হতো। তাঁর এই সুচিন্তিত পরিকল্পনা ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির বিশাল বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
দলের চেয়ারপার্সন এবং প্রধানমন্ত্রীর সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তারেক রহমান কোনো ক্ষমতার মোহে পড়েননি। তিনি সরকারি কোনো পদ বা সংসদ সদস্য হওয়ার চেয়ে সারা দেশের তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করতেই বেশি মনোযোগী ছিলেন।
তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ২০০২ সালে বিএনপি তাঁকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব দেয়। এই পদে থেকে তিনি সারা দেশে তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলন আয়োজন করেন, যা তাঁকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মেশার সুযোগ করে দেয়।
দলীয় সূত্র ও তাঁর সহকারীদের মতে, ওই সময় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আসা ১৮ হাজারেরও বেশি চিঠির উত্তর দেন তিনি।
জনগণের সঙ্গে এই নিবিড় যোগাযোগের সময় তিনি কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, বয়স্ক ভাতা এবং পরিবেশ সুরক্ষার মতো জনকল্যাণমূলক নানা উদ্যোগের প্রচার চালান। এ ছাড়া সমাজে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে ছাত্রীদের জন্য উপবৃত্তি চালু করার ক্ষেত্রেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
ব্যক্তিগত জীবন-
ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৯৪ সালে তিনি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ডা. জুবাইদা সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ও মন্ত্রী রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের কন্যা। এই দম্পতির একমাত্র সন্তান জাইমা রহমান বর্তমানে একজন ব্যারিস্টার এবং পেশাদার আইনজীবী।
২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর অকাল মৃত্যু এবং দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারের অভাব, তারেক রহমানকে আরও বেশি মানবিক ও সংবেদনশীল নেতা হিসেবে গড়ে তুলেছে।
রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম-
২০০৭ সালের ৭ মার্চ কোনো পূর্ব নোটিশ বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই তৎকালীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তারেক রহমানকে আটক করে। টানা ১৮ মাস তিনি বন্দি জীবন কাটান। ওই সময় রিমান্ডে থাকা অবস্থায় তাঁর ওপর চালানো হয় অমানুষিক ও পাশবিক নির্যাতন।
শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মুক্তি পান। এর এক সপ্তাহ পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশে যান।
কারাগারের সেই তিক্ত ও দুঃসহ অভিজ্ঞতা তাঁর মনোবল ভাঙতে পারেনি; বরং তা দেশ ও দলের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার আর নৈতিক সাহসকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
তারেক রহমানের দূরদর্শী রাজনৈতিক চিন্তা এখন কেবল দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমাদৃত। তিনি ইতোমধ্যেই দেশের রাজনীতিবিদদের প্রতি প্রতিহিংসা আর সংঘাতের পথ পরিহার করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
লন্ডনে দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনে তিনি দেশের ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। পাশাপাশি ভার্চুয়াল সভার মাধ্যমে নিজের ও দলের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
বিশেষ করে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি এই কার্যক্রম এবং জনসম্পৃক্ততা আরও জোরদার করেন।
তারেক রহমান দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, রাষ্ট্র সংস্কার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং ভেঙে পড়া অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য লড়াই করেন। এছাড়া শিক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে সমাজে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বাংলাদেশের হারানো গণতন্ত্র উদ্ধারের আন্দোলনে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁরই দিকনির্দেশনায় ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি বড় আন্দোলনে বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মী রাজপথে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
ছাত্র-জনতার সেই অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটে এবং তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তারেক রহমানের পিতা এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এক অনন্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দেশে আবার বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন।
ঐতিহ্য ও রূপকল্প-
তারেক রহমানের মায়ের প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়েই ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে বাংলাদেশে পুনরায় সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়।
বাবার আদর্শ আর মায়ের দেখানো পথ অনুসরণ করে তারেক রহমান সবসময়ই দলের মূল গণতান্ত্রিক নীতিতে অবিচল থেকেছেন। জনগণের মৌলিক অধিকার- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তিনি নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন।
২০২৩ সালে তারেক রহমান দেশের ভবিষ্যৎ শাসনকাঠামো নিয়ে বিএনপির ‘৩১ দফা’ রূপরেখা ঘোষণা করেন, যা মূলত বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
এই রূপরেখায় রয়েছে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সংবিধানে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মেয়াদসীমা, মানবাধিকার সুরক্ষা, বেকার ভাতা প্রদান, পরিবারবান্ধব নীতি এবং ব্রিটিশ মডেলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার মতো আধুনিক ও জনবান্ধব সব পরিকল্পনা এতে তুলে ধরা হয়েছে।
বর্তমানে এই ‘৩১ দফা’ কর্মসূচিই রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বিএনপির প্রধান নির্দেশিকা বা গাইডলাইন হিসেবে কাজ করছে।
সাহস ও প্রেরণার প্রতীক-
তারেক রহমানের জীবন ধৈর্য, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং নীতিবান রাজনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর মানবিক নেতৃত্ব আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা।
১৯৮৮ থেকে ২০২৫- এই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় তিনি বারবার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু ধৈর্য, সহনশীলতা আর কৌশলগত সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। নৈতিকতা, সহানুভূতি এবং আধুনিক ভিশনের এক বিরল সমন্বয়ই তাঁকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
তাঁর সুশৃঙ্খল জীবন এবং বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার আদর্শিক নেতৃত্ব ও জনসেবার এক অনন্য শিক্ষা দেয়। দৃঢ় সংকল্প আর একাগ্রতা কীভাবে রূপান্তরমূলক পরিবর্তন আনতে পারে, তাঁর জীবনই তার প্রমাণ। বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি আজ এক অনিবার্য ও অবিচ্ছেদ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজের স্থান সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন।