বাসস
  ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৬

পাকুন্দিয়ায় ঘোড়া দৌড় দেখতে মানুষের ঢল

ছবি: বাসস

কিশোরগঞ্জ, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা আবারও মানুষকে টেনে এনেছে মাঠে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার সুখিয়া বাজার সংলগ্ন বড় আজলদী মাঠে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা দেখতে হাজারো মানুষের উপচেপড়া ভিড় জমে।

প্রতিযোগিতা শুরুর অনেক আগেই মাঠের দুই পাশে অবস্থান নেন দর্শকরা। নারী-পুরুষ, শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও বাদ যাননি। অনেকেই শিশুদের কাঁধে বসিয়ে খেলা দেখান। গ্রামের নারী ও কিশোরীরা দলবেঁধে মাঠে আসেন। উৎসবমুখর পরিবেশে পুরো মাঠ কানায় কানায় ভরে ওঠে।

দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজন ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ছিল বাড়তি উচ্ছ্বাস। অনেকে বলছিলেন, একসময় গ্রামে ঘোড়া দৌড় ছিল নিয়মিত আয়োজন, যা এখন প্রায় বিলুপ্ত। তাই সন্তানদের সামনে এই ঐতিহ্য তুলে ধরতেই মাঠে এসেছেন তারা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন। 

সুখিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি আমিন কাজীর সভাপতিত্বে এবং বর্তমান সভাপতি ওয়াসিমুল বারী ওয়াসিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চন্ডিপাশা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শামছুদ্দিন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান মাসুদ, পৌর বিএনপির সভাপতি এসএএম মিনহাজ উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুল আলম ছোটন ও সুখিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম শামীম। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সুখিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলামিন মিয়া।

দর্শক রিপন মিয়া বলেন, যেখানে ঘোড়া দৌড়ের আয়োজন হয় সেখানেই যাওয়ার চেষ্টা করি। আজ বাড়ির পাশেই হওয়ায় পরিবার নিয়ে এসেছি। ভবিষ্যতে হয়তো এই ঐতিহ্য আর থাকবে না, তাই সন্তানদের দেখাতে চেয়েছি।

উজ্জ্বল মিয়া ও ঘাগড়া গ্রামের জহিরুল ইসলামও একই অনুভূতির কথা জানান। তারা বলেন, আগে ঘোড়া দৌড় ছিল পরিচিত দৃশ্য, এখন তা বিরল হয়ে গেছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, গ্রামীণ বিনোদনের এই ধারা নতুন প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যুব সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিং থেকে দূরে রাখতে এমন আয়োজন আরও বাড়ানো দরকার।