শিরোনাম

সংসদ ভবন, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : জাতীয় সংসদের সদস্যগণ আজ বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানকে দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে কোনোভাবেই তুলনা করা যায় না। তারা জোর দিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও ব্যাপ্তি সম্পূর্ণ আলাদা এবং অতুলনীয়।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ জাতির ইতিহাসে এক অনন্য ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। তারা একে 'সমুদ্রের মতো গভীর' হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, পরবর্তী কোনো আন্দোলন-জুলাই অভ্যুত্থানসহ-এর সমপর্যায়ে আসতে পারে না।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্তি লাভ, তবে এটি ১৯৭১ সালের মতো পূর্ণাঙ্গ সশস্ত্র যুদ্ধ ছিল না।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম একই মত প্রকাশ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিকল্প কিছু হতে পারে না এবং এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরকাল স্বতন্ত্র অবস্থান ধরে রাখবে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের মাধ্যমে গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য কার্য-উপদেষ্টা কমিটি ৫০ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করে। চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু তা সমর্থন করেন।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বর্তমান সরকারের উদ্যোগে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠার কথা তুলে ধরে বলেন, এতে রাজনৈতিক সহযোগিতা বাড়বে।
আলোচনায় হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস দুলু বলেন, জনগণ গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করলেও স্বাধীনতার পর তা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা করে বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বিত রাজনীতি স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পারে।
হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বিরোধী দল, বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে বলেন, তারা ধর্মীয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করেছে।
ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নেই।
এছাড়া আব্দুস সালাম পিন্টু, মুজিবুর রহমান সরোয়ার, জয়নুল আবদিন ফারুক, মো. শরিফুল আলম, এ এম মাহবুব উদ্দিন, সাইফুল আলম খান, ইলিয়াস মোল্লা এবং গোলাম রসুলসহ আরও অনেক সংসদ সদস্য আলোচনায় অংশ নেন।