বাসস
  ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৩৮

বাংলাদেশে বর্তমানে ১১.৮৯ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে: পররাষ্ট্র মন্ত্রী

কোলাজ। বাসস

সংসদ ভবন, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ ৮৯ হাজার।

তিনি আরো বলেন, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর ১৩ এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে অবস্থানরত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন।

আজ সংসদে সিলেট-৬ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরীর তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, সরকার রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাস করে। ১৯৭৮ সালে আগত ২ লাখ রোহিঙ্গার পুনর্বাসন সম্পন্নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা এবং ১৯৯২ সালে আগত ২ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গার মধ্যে ২ লাখ ৩৬ হাজার জনকে প্রত্যাবাসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সফল নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, একই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে দ্রুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ চলমান রয়েছে।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে বহুমুখী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রেখে এই সংকটের টেকসই সমাধান খোঁজা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গা সংকটে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়াগুলোতে নৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান মামলায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। লিখিত ও মৌখিক শুনানি সম্পন্ন হয়েছে এবং কয়েকটি দেশ এতে অংশ নিয়েছে। শিগগিরই রায় ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার পক্ষ না হলেও ওআইসি’র মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং আর্থিকসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করছে।

মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করছে এবং মিয়ানমারের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা চাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বাংলাদেশ এ তদন্তে প্রমাণসহ পূর্ণ সহযোগিতা করছে।

এছাড়া জাতিসংঘ-প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থাকেও বাংলাদেশ সহায়তা করছে, যা গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ করছে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, আর্জেন্টিনায় দায়ের করা একটি মামলায় মিয়ানমারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানাও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, সরকারের স্পষ্ট অবস্থান হলো— রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত এবং টেকসই শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়াকে পূর্ণ সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।