শিরোনাম

সংসদ ভবন, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য আন্তর্জাতিক বৃত্তি, ফেলোশিপ এবং অ্যাকাডেমিক বিনিময় কর্মসূচির সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
আজ সংসদে ঢাকা-১৮ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেনের টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশের সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার নতুন নতুন সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকারে শিক্ষা ও গবেষণাকে গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বিনিময় কর্মসূচির আওতায় শিক্ষক, গবেষক, লেখক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, নীতি-প্রণেতা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদীয়মান তরুণ নেতৃত্বকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়াতে বহুমাত্রিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস প্লাস, যুক্তরাজ্যের চিভনিং, জার্মানির ডিএএডি এবং নেদারল্যান্ডসের অরেঞ্জ নলেজ প্রোগ্রাম-এর আওতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ভারতের আইসিসিআর ও আই-টেক কর্মসূচি এবং পাকিস্তানের নলেজ করিডোর ও পিটিএপি কর্মসূচির মাধ্যমে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পেশাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরো জানান, চীনে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা কর্মসূচির অধীনে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রশিক্ষণ বিষয়ে একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে শিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি, টিভিইটি ও এসটিইএম শিক্ষা সহযোগিতা এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। জাপানের সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণে ‘ইমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইএসডিপি)’ চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আলোচনা চলছে, যা ২০২৬ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার টিএএফই এবং বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে অস্ট্রেলিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর, নবায়ন ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তুরস্ক, বেলারুশ ও গ্রিসের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাশিয়া, হাঙ্গেরি, লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া, ইউক্রেন, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, মলদোভা, নর্থ ম্যাসেডোনিয়া, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, মন্টেনেগ্রো ও আলবেনিয়াসহ একাধিক দেশের সঙ্গে শিক্ষা সহযোগিতা চুক্তি চূড়ান্তকরণ ও সম্প্রসারণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এসব সহযোগিতার আওতায় স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, ভাষা শিক্ষা এবং প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের সুযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।