বাসস
  ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:০৮

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সিলেটে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হবে : ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শনিবার মৌলভীবাজারের কুলাউড়া নবীন চন্দ্র স্কুল মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি : বাসস

ঢাকা, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সিলেটে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট হবে। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার থেকে ফ্লাইট সিলেট আবার আসবে। 

তিনি আরো বলেন, আমাদের সিলেট এয়ারপোর্ট পূর্ণমানের আর্ন্তজাতিক এয়ারপোর্ট না হওয়ার কারণে শুধু বিমানের ওঠানামা হয়, তাও লন্ডন থেকে।
 
আজ শনিবার মৌলভীবাজারের কুলাউড়া নবীন চন্দ্র স্কুল মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির সিলেট এয়ারপোর্ট প্রসঙ্গে আরো বলেন, মাঝে মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে দুই-একটা বিমান সিলেট হয়ে ঢাকা যায়। কিন্তু, আমাদের বিপুল সংখ্যক মানুষ ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আছেন। বাংলাদেশে তিনটি আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট আছে। দু’টি এয়ারপোর্টে এয়ারলাইনস নামে, কিন্তু সিলেটে আসে না।

তিনি আরো বলেন, এই দেশ এগিয়ে যাবে যুবকদের হাত ধরে। এই দেশকে যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। মুখের কথা নয়, ঠোঁটের কথা নয়, এটা আমাদের বুকের কথা। যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে— এই জাতি তাদের কাছে চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকবে।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা পাহাড়ি, সমতল, নিম্নাঞ্চল এবং সকল জাতি বর্ণ ও শ্রেণির মানুষদের নিয়ে একটি শান্তি ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়তে চাই। যেখানে থাকবে না কোনো ভেদাভেদ। একটি শ্রেণি সম্পদের পাহাড় গড়বে, আরেকটি শ্রেণি থাকবে ভুখা, এটা আমরা হতে দেব না।

চা শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারে জন্মগ্রহণ করেছি। চা শ্রমিকদের ভুলে গেলে আমি নিজেকেই ভুলে যাব। আমি তাদের জন্য দু’টি বিষয় নিশ্চিত করব। একটি স্বাস্থ্য ও অন্যটি সুশিক্ষা।

তিনি আরো বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অনেক লোকজন দেশের বাইরে যান। সেখানে অনেক প্রবাসী ভাইয়ের মৃত্যু হলে তাদের নিয়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। আমরা এটা চাই না। আমরা চাই— রাষ্ট্র তার নিজ দায়িত্বে এই লাশগুলো সম্মানের সাথে বাংলাদেশে নিয়ে আসবে।

হ্যাঁ ভোট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, গণভোট বাংলাদেশকে বদলে দেওয়ার ভোট, নতুন বাংলাদেশের জন্মের ভোট, চব্বিশের যোদ্ধাদের, শহীদদের আকাঙ্ক্ষার ভোট। সেই ভোট হচ্ছে গণভোট। সেই ভোটে হ্যাঁ হবে। হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামী।

কুলাউড়া আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সায়েদ আলীকে নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, কুলাউড়া আসনে প্রার্থী দু’জন। একজন সায়েদ আলী। আর ছায়াপ্রার্থী হিসেবে আছি আমি।

জনসভায় জামায়াতের মৌলভীবাজার জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামির আলীর পরিচালনায় এবং মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমির ও মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. সাহেদ আলীর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা ও শিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরি পরিষদের সদস্য শরিফ মাহমুদ।
 
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার-১ সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, সিলেট মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রব, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি শাহ মাছুম ফারুকী, এনসিপির জেলা যুগ্ম সদস্যসচিব শাহ আলম সরকার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সহ-সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা ইউনুছ আহমদ, জুলাই যোদ্ধা শাহাবুদ্দিন বাবলু, ফুলতলা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি হর গোবিন্দ, সিংগুর পানপুঞ্জির মন্ত্রী জামিন ধর প্রমুখ।

প্রধান অতিথি জনসভায় মৌলভীবাজার-১ সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী আমিনুল ইসলাম এবং মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) সংসদীয় আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. সায়েদ আলীর হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।