শিরোনাম

ময়মনসিংহ, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ এবার স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে- পরীক্ষিত, পরিচিত ও প্রমাণিত ইনসাফভিত্তিক নেতৃত্বের পক্ষেই তারা থাকবে।
আজ মঙ্গলবার ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ মাঠে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, যারা ন্যায়ের পক্ষে, সত্যের পক্ষে, হকের পক্ষে এবং মদিনার আদলে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইনসাফ কায়েমে বিশ্বাস করে, জনগণ এবার তাদের হাতেই দেশের দায়িত্ব তুলে দিতে চায়।
তিনি আরও বলেন, জনগণ পুরনো রাজনীতির পরিণতি দেখেছে। এই রাজনীতি আর কেউ চায় না। আমাদের যুবক-যুবতীরা এই পুরোনো রাজনীতি চায় না। আমাদের মা- বোনেরাও চায় না। সবাই একটি নতুন বাংলাদেশ চায়-একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও সম্মানজনক বাংলাদেশ চায়।
জামায়াত আমির বলেন, এবারের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়। এটি জাতির কিসমত সঠিক পথে দাঁড় করানোর নির্বাচন। তিনি বলেন, এই নির্বাচনে দু’টি মূল্যবান ভোট রয়েছে। প্রথম ভোট হবে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের ভোট-বিশেষ করে যুব সমাজ ও মা-বোনদের আশা-আকাঙ্খা বাস্তবায়নের ভোট। এই ভোট হবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি। আমরা নিজেরা হ্যাঁ ভোট দেব এবং সারা ময়মনসিংহবাসীকে হ্যাঁ ভোটে উদ্বুদ্ধ করবো।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ একটি সবুজ-শ্যামল, উর্বর মাটির দেশ। মাটির নিচে সম্পদ, পানির নিচে সম্পদ-সবই আছে। তারপরও ১৯৪৭ ও ১৯৭১-এর পর দীর্ঘ এত বছরেও আমরা সম্মানিত রাষ্ট্র হিসেবে দাঁড়াতে পারিনি।
ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর কৃষিতে বিপ্লব হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত বাজেট, গবেষণা সহায়তা ও জনবল দেওয়া হয়নি। তারপরও এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশকে অনেক কিছু দিয়েছে।
তিনি ঘোষণা দেন, যদি ইনসাফভিত্তিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বাংলাদেশ নয়-এশিয়া পেরিয়ে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটা মুরগি বা ছাগল চুরি করলে মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়-আমরা তা সমর্থন করি না। পেটের ক্ষুধায় কেউ হাত বাড়ালে তার আগে বড় চোরদের ধরুন। তিনি নারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মা-বোনদের ইজ্জতের প্রশ্নে কোনো আপস হবে না। চলাচল, কর্মস্থল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যুবকরা রাস্তায় নেমে বেকার ভাতা চায়নি। তারা বলেছে-আমাদের কাজ দিন। আমরা কাজ করতে চাই, দেশ গড়তে চাই। তিনি বলেন, আমরা যুবকদের হাতে অপমানজনক বেকার ভাতা নয়, দক্ষতা তুলে দেব। প্রত্যেক তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষিত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হবে।
সভায় মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মুক্তাগাছা আসনের জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ময়মনসিংহ জেলা আমির আব্দুল করিম, নায়েবে আমির কামরুল হাসান মিলন, আসাদুজ্জামান সোহেল, মহানগর সেক্রেটারি শহীদুল্লাহ কায়সারসহ ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা।