বাসস
  ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৩২

ইতিহাসে চ্যাংড়া ছেলেরাই পৃথিবীর গতিপথ পরিবর্তন করেছে : আখতার হোসেন

এনসিপি’র সদস্যসচিব আখতার গতকাল রোববার রাতে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা সদরের বালিকা বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে শাপলা কলি প্রতীকের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন। ছবি : বাসস

রংপুর, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : রংপুর-৪ আসনে ১১ দলের সমর্থিত শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী আখতার হোসেন বলেছেন, স্বপ্ন দেখি উত্তরবঙ্গকে নিয়ে। স্বপ্ন দেখি গোটা বাংলাদেশকে নিয়ে। অনেকে বলে চ্যাংড়া ছেলে কী করবে। আমিও স্বীকার করি বয়সে চ্যাংড়া। কিন্তু ইতিহাসে চ্যাংড়া ছেলেরাই পৃথিবীর গতিপথ পরিবর্তন করেছে। 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার বলেন, ২৪-এ অভ্যুত্থানের সময় রংপুরের চ্যাংড়া আবু সাঈদ চ্যাংড়ামো করে দুই হাত প্রসারিত করে দিয়ে পুলিশের গুলির সামনে নিজের বুক পেতে না দিত আজ নতুন বাংলাদেশ পেতাম না। চ্যাংড়া বয়সের কথা দিচ্ছি চ্যাংড়া চ্যাংড়া করতে কাউনিয়া পীরগাছাসহ গোটা রংপুর অঞ্চলকে এগিয়ে নিয়ে যাব। বৈষম্য দূর করব। চ্যাংড়ার শক্তিতে বাংলাদেশকে আধিপত্যবাদ মুক্ত করব ইনশা আল্লাহ।

গতকাল রোববার রাতে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা সদরের বালিকা বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে শাপলা কলি প্রতীকের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

আখতার হোসেন বলেন, অতীতে কিছু গণমাধ্যম অযথা একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। 

এখনো মিডিয়ার একটি বড় অংশ একটি নির্দিষ্ট পক্ষের দিকে ঝুঁকে রয়েছে। মিডিয়ার মালিকেরা সাংবাদিকদের দিয়ে পক্ষপাতমূলক সংবাদ করাতে পারেন, কিন্তু জনগণ ইতোমধ্যেই তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। 

তিনি গণমাধ্যম মালিকদের উদ্দেশে বলেন, কোনো একটি পক্ষে এখনই চলে যাবেন না। কারণ, জনগণ যখন সিদ্ধান্ত বদলাবে, তখন আপনারা পক্ষ পরিবর্তন করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জুলুম, গুম ও খুনের শিকার হয়েছে। এসব সহ্য করেই ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছে মানুষ। জুলুম থেকে কিছুটা মুক্তি মিললেও এখনো অনিয়ম, দুর্নীতি ও আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত হওয়া যায়নি। রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের বিচারও এখনো সম্পন্ন হয়নি।

আখতার হোসেন বলেন, এসব সংস্কার ও বিচার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আধিপত্যবাদ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও খেলাফতসহ ১১টি দল একযোগে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ঢেলে সাজানো হবে। নেতা ও দালাল-নির্ভরতা কমিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, কোটি টাকা খরচ করে নির্বাচন করার সামর্থ্য আমার নেই এবং সেটি উচিতও নয়। কোটি টাকার নির্বাচনই আমাদের ধ্বংস করেছে। তাই আমার হয়ে আপনাদেরই কথা বলতে হবে, গল্প করতে হবে। 

জনগণের ভালোবাসা নিয়েই এই নির্বাচন পার হতে চাই। নির্বাচিত হলে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও করেন তিনি।

নির্বাচনী সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ এনসিপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতারা।