বাসস
  ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৪৬

গ্যাস সমৃদ্ধ ভোলার ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেব: ভোলা ১ এর বিএনপি জোট প্রার্থী পার্থ

ভোলা-১ আসনের বিএনপি জোটের প্রার্থী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ । ছবি: বাসস

ভোলা, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): ভোলা-১ আসনের বিএনপি জোটের প্রার্থী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ ও ভোলা-বরিশাল সেতু বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন। 

ভোলায় মেডিকেল কলেজ নির্মাণ করে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং ভোলাবাসীর মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করবেন বলে জানান। 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই অঙ্গীকারের কথা জানান।

আন্দালিভ রহমান পার্থ একাধারে একজন রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী ও ভোলা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি ঢাকায় অবস্থিত ব্রিটিশ স্কুল অব 'ল' এর অধ্যক্ষ। তার রাজনৈতিক জীবন ২০০৮ সালে শুরু। ওই বছরই নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সদস্য ছিলেন। সাবেক এই সংসদ সদস্য এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে ফের প্রার্থী হয়েছেন।

পার্থ এরশাদ সকারের সাবেক মন্ত্রী এবং ভোলা ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাজিউর রহমান মঞ্জুর ও শেখ রেবা রহমান দম্পতির ছেলে। বাবা নাজিউর রহমান ২০০৮ ইং সালের ৬ এপ্রিল মৃত্যু বরনের পর তার রেখে যাওয়া রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) হাল ধরেন। দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে রাজনীতি শুরু করেন তিনি।

বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। 

তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাসসের ভোলা জেলা সংবাদদাতা আল-আমিন শাহরিয়ার।

বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি কী?

পার্থ: আসলে প্রত্যেক প্রার্থীরই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আমিও তার ব্যাতিক্রম নই। আমার ভোলা সদর-১ আসনের ভোটারদের জন্য আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হলো-ভোলার ঘরে ঘরে অসমাপ্ত গ্যাস সংযোগগুলো দেয়া। ভোলাকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করে জিরোতে নিয়ে আসা। ভোলায় মেডিকেল কলেজ নির্মাণ করে স্বাস্থ্যসেবায় পরিবর্তন আনা এবং ভোলা-বরিশাল সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা। এসমস্ত দাবিগুলো ভোলাবাসীর মৌলিক অধিকার এবং যৌক্তিক বলে আমি মনে করি। এখানকার জনগণের মূল্যবান ভোটে নির্বাচিত হলে ভোলার দৃশ্যপট পাল্টে দেবো। ভোলার মানুষের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ।

বাসস: নির্বাচনী আচরনবিধি পালনো নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কি?

পার্থ: নির্বাচনের আচরণবিধি অবশ্যই মেনে চলতে হবে। আমি আমার সকল নেতাকর্মীকে নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দিয়েছি। আচরণবিধি সম্পর্কে অনেকে জানেন না, তাই আরো প্রচার প্রচারণা হওয়া দরকার, যাতে নেতাকর্মীরা আরো জানতে পারেন। 

বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
পার্থ:
আমি চাই জুলাই আন্দোলন এবং বিপ্লব ও গণভোটের বিষয়টি যেনো প্রোপার রেসপেক্ট পায়।

বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার প্রত্যাশা কী?

পার্থ: দীর্ঘ ১৭ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি। তাই আমার প্রত্যাশা এবার নির্বাচনে যেনো তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন এবং যাকে মানুষ বিশ্বাস করেন যে তাকে দিয়ে আমাদের সকল উন্নয়নকাজগুলো হবে, তাকেই যেনো নির্বাচিত করা হয়।

ভোলা সদর আসন আমার জম্মভূমি। আমার বাবা মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জুর এ আসনের এমপি ছিলেন। এছাড়া তিনি এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভার স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র ছিলেন। আমিও একই আসনের সংসদ সদস্য ছিলাম। তাই এখানকার মানুষের সাথে আমার নাড়ির টান রয়েছে, আর সে কারণেই আমি এবারও ভোলা সদর-১ আসন থেকে নিজ দলীয় গরুর গাড়ি প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।

এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জেলা নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামকে (দাঁড়িপাল্লা) একক প্রার্থী দিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনয়ন দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অঙ্গসংঠন শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা ওবায়েদুর রহমান। 

ভোলা জেলা নির্বাচন অফিসের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী ভোলা ১ আসনটি ১টি পৌরসভা ও ১৩ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮৬৪ জন। এরমধ্যে-পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৯ হাজার ২৪০, নারী ভোটার-১ লাখ ৮৪ হাজার ৬২০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন। এবার নতুন ভোটার সংখ্যা-১ লাখ ৭ হাজার ৯৯৭ জন।

এ আসনে আগামী নির্বাচনে কমপক্ষে ১ লাখ ভোটার রয়েছেন, যারা কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নয়। এরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থী বেঁছে নিতে যেদিকে অগ্রসর হবেন, সেই প্রার্থী-ই বিজয় লাভ করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না এখানকার রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ। তাছাড়া তারুণ্যের নতুন ভোট এখানে বিরাট একটি ফ্যাক্টর বলেও মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

সব মিলিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসনটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের জন্য একটি জটিল সমীকরণ তৈরি করেছে বলে ভোলার প্রবীণ রাজনীতিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মনে করছেন।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গণতন্ত্রের কাঙ্ক্ষিত ধারা উত্তরণে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।