বাসস
  ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:২৭

ঝালকাঠির ব্যবসা বাণিজ্যের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হবে: ২ আসনের জামায়াত প্রার্থী নেয়ামুল করিম

ঝালকাঠি ২ (ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি) আসনে ১১ দলীয় জোট (জামায়েতে ইসলামী) প্রার্থী এস.এম নেয়ামুল করিম। ছবি: বাসস

ঝালকাঠি, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ঝালকাঠি ২ (ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি) আসনে ১১ দলীয় জোট (জামায়েতে ইসলামী) প্রার্থী এস.এম নেয়ামুল করিম দ্বিতীয় কোলকাতা খ্যাত ঝালকাঠির ব্যবসা বাণিজ্যের অতীত ইতিহাস ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বন্ধ হয়ে যাওয়া লবণ মিল চালু এবং প্রায় বিলুপ্ত হতে যাওয়া কাসা ও পিতল শিল্পকে ঋণ সহায়তা দিয়ে পুনরুজ্জিবিত করা হবে বলে জানান তিনি। 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাসসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ প্রতিশ্রুতির কথা জানান। 

জামায়াত প্রার্থী এস এম নেয়ামুল করিমের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাসসের ঝালকাঠি জেলা সংবাদদাতা মো.আককাস সিকদার।

বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী ?

এস.এম নেয়ামুল করিম: আমি বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচিত জিএস ছিলাম। জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছি। সব সময় এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। ঝালকাঠিকে বলা হতো দ্বিতীয় কোলকাতা। আমি নির্বাচিত হলে সেই দ্বিতীয় কোলকাতার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবো। বন্ধ হয়ে যাওয়া লবণ মিলগুলো চালু করার উদ্যোগ নেব। এছাড়া ঝালকাঠিতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করবো। মোংলা বন্দর ও পায়রা বন্দরের সাথে ঝালকাঠির যোগাযোগে একটি আধুনিক সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলবো এবং পেয়ারা শিল্পের সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেব।

এছাড়া নলছিটি পৌরসভা দেশের প্রাচীন পৌরসভা, কিন্তু এ পৌরসভায় রাস্তাঘাটের কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি বিগত দিনে। তাই নলছিটিকে আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলবো। 

ইলেন ভুট্টো ছাড়াও এ আসনে ভোট যুদ্ধে লড়ছেন আরও ৭জন, তারা হলেন জামায়াতে ইসলামীর এস এম নেয়ামুল করীম (দাড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম সিরাজি (হাতপাখা), এনপিপির ফোরকান হোসেন (আম), জেএসডির মাসুুদ পারভেজ (তাঁরা), গণঅধিকার পরিষদের মাহমুদুল ইসলাম সাগর (ট্রাক), স্বতন্ত্র সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম (মোটরসাইকেল), স্বতন্ত্র মো. নুর উদ্দিন সরদার (কলম)।

বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী ?

এস.এম নেয়ামুল করিম:সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের আচারণবিধির প্রতি যত্নশীল হতে নেতা কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি। সব দলের প্রার্থী এবং সমর্থকদের সাথে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য নেতা কর্মীদের আহ্বান জানিয়েছি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় রাখার জন্য সকলকে অনুরোধ জানিয়েছি।

বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কি ?

এস.এম নেয়ামুল করিম: জুলাই গণঅভ্যুথানে ১৪০০ মানুষ প্রাণ দিয়েছে। ৩০ হাজার মানুষ পঙ্গু হয়েছে। নিহত এবং আহতদের পরিবার ভবিষ্যতে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। তাই ওইসব পরিবারকে চিন্তামুক্ত রাখতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। জুলাই সনদকে স্থায়ী রূপদিতে না পারলে আবার ফ্যাসিজম ফিরে আসবে। আমাদের মনে রাখতে হবে এই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ওসমান হাদী শহীদ হয়েছে।

বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী ?

এস. এম নেয়ামুল করিম: একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে, জনগণের মধ্যে এ রকম আস্থা তৈরি করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। সকল রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ দিতে হবে। কালো টাকার প্রভাব বন্ধ এবং সন্ত্রাস বন্ধ করার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। 

শের-ই বাংলা এ.কে. ফজলুল হক, কবি কামিনী রায়ের জন্মস্থানসহ রুপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাসের স্মৃতি বিজড়িত ধানসিঁড়ি এবং বিষখালী ও সুগন্ধা নদীর তীরে অবস্থিত ঝালকাঠি মহকুমাকে ১৯৮৪ সালে জেলা হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। জেলার আয়তন ৭০৬.৭৬ বর্গকিলোমিটার। ৪টি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ জেলায় বর্তমানে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫৯৩৮২৬ জন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জেলার ভোটারসংখ্যা ছিল ৫৬০৬৯৫ জন।

ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলা নিয়ে ঝালকাঠি ২ আসন। এ আসনে বর্তমান ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৩৯৬ জন। গত সংসদ নির্বাচনে ভোটারসংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩২৭ জন। গত নির্বাচনের চেয়ে ভোটার বেড়েছে ১লাখ ৬ হাজার ৬৯ জন। বাড়তি ভোটারের বেশিরভাগই তরুণ ভোটার, যারা এবারই প্রথম ভোট দিবে। সে হিসেবে তরুণ ভোটাররা এবারভোটের মাঠে জয় পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। 

গত ১২টি সংসদ নির্বাচনে ৫ বার আওয়ামী লীগ, ৪বার বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি তিনবার এ আসনটি দখলে নেয়। তবে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হতে পারেনি।

১৯৭৩ সালের পর এ আসনটি চলে যায় বিএনপি ও জাতীয় পার্টির দখলে। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে এমপি নির্বাচিত হন জুলফিকার আলী ভূট্টো। ১৯৯১ সালে দলে যোগদিয়েই বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে আওয়ামী লীগের আমির হোসেন আমু ও জাতীয় পার্টির ভূট্টোকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন ব্যবসায়ী থেকে পৌর ও উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়া গাজী আজিজ ফেরদৌস। আবার ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজী আজিজ ফেরদৌসকে হারিয়ে সংসদ নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির জুলফিকার আলী ভূট্টো। 

জুলফিকার আলী ভূট্টোর মৃত্যুর পর ২০০০ সালের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের আমির হোসেন আমুর সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন ভূট্টোর স্ত্রী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো। বিতর্কিত উপনির্বাচনে ইলেন ভূট্টোকে জোড় পূর্বক হারানো হয়। নির্বাচনে হারলেও আমির হোসেন আমুর সাথে নির্বাচন করে ব্যপক পরিচিতি এবং জনপ্রিয়তা লাভ করেন ইলেন ভুট্টো। ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিতে যোগদিয়েই মনোনয়ন পান ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো। ইলেন ভূট্টোর সাথে হেরে যান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আমির হোসেন আমু , বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী গাজী আজিজ ফেরদৌস ও জাতীয় পার্টির সৈয়দ আনওয়ার হোসেন। 

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো বিএনপির মনোনয়নপেলেও ওয়ান ইলেভেন সরকারের একতরফা নির্বাচনে তাকে হারিয়ে আসনটি দখলে নেয় আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের আমলে গত ১৬ বছরে ঝালকাঠি ২ আসনে তেমন কোন যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি না হওয়ায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আবার মনোনয়ন দেওয়া হয় গৃহবধু থেকে রাজনীতিতে আসা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলেন ভুট্টোকে। 

এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ইলেন ভুট্টো জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। ভোটের মাঠে বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। এ আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়েতের এস এম নেয়ামুল করিমের। দুজনই নলছিটির বাসিন্দা। নেয়ামুল করিম বিএ অনার্স পেশায় একজন ব্যবসায়ী। আর ইলেন ভূট্টো একজন গৃহবধু উচ্চ মাধ্যমিক পাস।