শিরোনাম

ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পুরোনো দিনের বস্তাপঁচা, পেশিশক্তি ও সহিংসতার রাজনীতি বন্ধ করে গণমানুষের কল্যাণের রাজনীতির পক্ষে আমরা দাঁড়াতে চাই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে আজ বুধবার মিরপুর-১৫ সংসদীয় আসনে গণসংযোগ করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির। তিনি এই আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির, মিরপুর-১৫ আসনের আসন পরিচালক আবদুর রহমান মুসা, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ দলের নেতা-কর্মীরা।
গণসংযোগ শেষে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মিরপুরসহ ঢাকা মহানগরীকে একটি নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তুলবো; যেখানে জান, মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা থাকবে। সবার জন্য উন্নয়ন নিশ্চিত করে একটি ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। যানজটের অভিশাপ থেকে ঢাকাবাসীকে মুক্ত করা হবে। শিশু পার্ক, খেলার মাঠ ও সবুজায়ন নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, ‘একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য রাজধানী তৈরি করা আমাদের প্রত্যয়। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে সৎ, যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সকল ধর্মের মানুষ নিরাপদ থাকবে। ব্যবসায়ীরা নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে পারবেন- এমন পরিবেশ তৈরি করা হবে। আধিপত্যবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ আছে এবং থাকবে।’
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, মিরপুর শুধু ঢাকার একটি এলাকা নয়- মিরপুর হলো সংগ্রামের প্রতীক, সাহসের প্রতীক, প্রতিবাদের প্রতীক। এই মিরপুর জুলাই বিপ্লবের অন্যতম দুর্গ ছিল। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, এই মিরপুরই আজ অবহেলা, দখলদারি, যানজট, জলাবদ্ধতা, অপরাধ আর অনিরাপদ স্থানে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যানজট আজ আমাদের নিত্যদিনের সমস্যা। বাস আছে, কিন্তু শৃঙ্খলা নেই। ফুটপাত দখল হয়ে গেছে, মানুষ বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামছে। এটি পরিকল্পিত অব্যবস্থাপনার ফল। আমাদের দায়িত্ব দিলে- সঠিক ব্যবস্থাপনা ফিরিয়ে আনা হবে।’
তিনি বলেন, আমরা নির্বাচিত হলে বাস রুট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবো। ঢাকায় মেট্রোরেলের পরিসর বাড়ানো হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে। স্থানীয় রাস্তাগুলোর পরিকল্পিত ও টেকসই সংস্কার করা হবে। জাতীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে মিরপুরকে ঢাকার সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করা হবে।
আমীর বলেন, ‘ঢাকায় নারীদের নিরাপত্তা আজ সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা। মা-বোনেরা চলাচলে নিরাপদ বোধ করেন না। ছিনতাই, মাদক, কিশোর গ্যাং- সব মিলিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ। আমরা নারীদের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়বো, ইনশাআল্লাহ। ঘর থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল, রাস্তাঘাট ও গণপরিবহন- সব জায়গায় নারীরা নিরাপদ থাকবে। সকল ধর্মের মানুষ নিরাপদ থাকবে।'
তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি, শক্তিশালী কমিউনিটি পুলিশিং, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি, মাদককে আর ‘সহ্য’ করা হবে না-প্রতিরোধ করা হবে।
তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ানো-এই রাজনীতি আমরা বন্ধ করবো।
তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আইটি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করবো, ফ্রিল্যান্সিং ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলবো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে, বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করবো। মিরপুরের যুবক-যুবতীরা হাত পাতবে না, বরং উদ্যোগী হবে। দক্ষ হয়ে অধিক আয় করবে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। পুরোনো দিনের বস্তাপচা রাজনীতি, পেশিশক্তির রাজনীতি ও সহিংসতার রাজনীতি বন্ধ করে আমরা দাঁড়াতে চাই গণমানুষের কল্যাণের রাজনীতির পক্ষে। রাষ্ট্র পরিচালনায় দলীয় বিবেচনায় নয়- দেশপ্রেমিক, যোগ্য ও দক্ষ মানুষ দায়িত্ব পাবে। এই মিরপুর জুলাইয়ের দিনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দুর্গ হয়ে উঠেছিল। এই এলাকার মানুষ অন্যায় সহ্য করে না- ইতিহাস তার সাক্ষী। আজ আবার সময় এসেছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। আপনাদের সম্মান, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের জন্য দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে সুযোগ দিন।’