বাসস
  ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৩৯

নীতির পরিবর্তন ছাড়া প্রত্যাশিত পরিবর্তন সম্ভব নয় : টাঙ্গাইলে চরমোনাই পীর

ছবি: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফেসবুক পেইজ

ঢাকা ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস): ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর, চরমোনাই বলেছেন, নীতির পরিবর্তন না করে কেবল নেতার পরিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের কাঙ্ক্ষিত মুক্তি ও প্রত্যাশিত পরিবর্তন সম্ভব নয়।

আজ মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টাঙ্গাইলের আসন নম্বর ৩, ৪, ২ ও ৬-এর কালিহাতী, সদর ও দেলদুয়ারে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

চরমোনাই’র পীর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পুরোনো নীতি ও বন্দোবস্ত পরিবর্তনের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো সেই সুযোগ কাজে না লাগিয়ে পুরোনো কায়েমি স্বার্থবাদ টিকিয়ে রাখার পথেই হাঁটছে।

তিনি আরও বলেন, পুরোনো বন্দোবস্তের বিরুদ্ধে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। এ লড়াইয়ে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা দেশকে ভালোবাসেন, যারা নয়া বন্দোবস্ত চান; তারা হাতপাখায় ভোট দিন।

চরমোনাই পীর বলেন, ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতায় গেলে দেশে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অর্থপাচার থাকবে না। ইসলামের মধ্যেই সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদার নিশ্চয়তা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসলাম সবার জন্য আশ্রয়স্থল।

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলনের ইশতেহারের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘জনপ্রত্যাশার বাংলাদেশ’। 

তিনি বলেন, সর্বত্র শরীয়াহর প্রাধান্য, তারুণ্যের কর্মসংস্থান এবং কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে। অন্য দলের ইশতেহারের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের ইশতেহারের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এই ইশতেহার ঘোষণা করেছেন একজন পীর ও আলেম; যিনি কখনো কথার বরখেলাফ করেননি। ফলে জাতি তার কথার ওপর আস্থা রাখতে পারে।

টাঙ্গাইল-৬ আসনের প্রার্থী আলহাজ্ব আখিনুর মিয়া বলেন, নাগরপুর ও দেলদুয়ার বরাবরই বঞ্চিত অঞ্চল। তিনি নির্বাচিত হলে এই এলাকার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করবেন ইনশাআল্লাহ। দেশের প্রতিটি টাকা জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি নিজে দুর্নীতি করবেন না এবং কাউকেও করতে দেবেন না। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও তারুণ্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার করেন।

জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ, ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ছাত্রনেতা হোসাইন ইবনে সরোয়ার প্রমুখ।