শিরোনাম

খুলনা, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) জামায়াত মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, রাষ্ট্র সংস্কার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে ‘হ্যাঁ’ তে ভোট দিতে হবে। যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে কথা বলছেন, তারা দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বর্তমান ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে চান।
আজ সোমবার জেলার ফুলতলা উপজেলার পটিয়াবান্দা, ধোপাখোলা, পিপরাইল এবং ডুমুরিয়া উপজেলার মান্দ্রা, দহখোলা, পাকুড়িয়া, রুদাঘরা, শৈলগাতি এলাকায় নির্বাচনী জনসভা, মিছিল, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে না পারলে গত ৫৪ বছরে যে দুর্ভোগ, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা হয়েছে, তা আবারও চলতে থাকবে।
তিনি দাবি করেন, ছাত্রসমাজ ইতোমধ্যে বিভিন্ন নির্বাচনে চাঁদাবাজদের পরাজিত করেছে, ফলে জাতীয় নির্বাচনেও দুর্নীতিবাজ-চাঁদাবাজদের পরাজিত করা সম্ভব।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে নৈতিকতা ও চরিত্রবান নেতৃত্বের পক্ষে ভোট দিতে হবে।
তিনি বলেন, “ধানের শীষ, নৌকা ও লাঙ্গল রাষ্ট্র চালাতে পারলে দাঁড়িপাল্লাও পারবে—এটা আমাদের অধিকার’’।
একই সঙ্গে তিনি বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলের সঙ্গে শত্রুতা নয়, বরং সৌহার্দ্য বজায় রেখে দেশকে ভালোবাসার আহ্বান জানান।
তিনি ভোটের দিন ভোটারদের সকালেই কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আগে ভোট দিয়ে তারপর ঘরে ফিরবেন। যুবকদের দায়িত্ব থাকবে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়া, যাতে কোনো ভোট ডাকাতি বা সন্ত্রাস না হয়।”
নির্বাচিত হলে বিল ডুমুরিয়ার বিল ডাকাতিয়ার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনই হবে একনম্বর অগ্রাধিকার উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘আমি নিজেও বিল ডাকাতিয়ার লোক। এখানেই আমাদের জমি-জমা, ফসল হয়। এই বিল ডুবে গেলে যে কষ্ট আপনাদের হয়, সেই কষ্ট আমারও হয়। তাই আল্লাহ যদি আমাকে কবুল করেন, আমার প্রথম কাজ হবে বিল ডাকাতিয়ার পানি সরানো। বিল ডাকাতিয়ার সমস্যা সমাধানের পর ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট, মসজিদ-মন্দিরসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করা হবে।’
ফুলতলা উপজেলা তার জন্মস্থান উল্লেখ করে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এলাকাটিকে সুন্দরভাবে সাজাতে তিনি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছে, তাদের কেউই দুর্নীতিমুক্ত শাসনের দাবি করতে পারবে না। প্রত্যেক সরকারের আমলেই দুর্নীতি, দলীয়করণ ও বিরোধী দমননীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ভোট কেনার জন্য দেওয়া কালো টাকা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। টাকা দিয়ে মানুষের বিবেক কেনা যায় না। ভোট বিক্রি করা মানে ভবিষ্যৎ বিক্রি করা। ভোট কেনার উদ্দেশ্যে দেওয়া অর্থ সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার পরামর্শও দেন তিনি।
তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ। বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক রাষ্ট্র গড়তে হলে পুরোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন অপরিহার্য।
তিনি দাবি করেন, ১১ দলীয় জোট দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দুর্নীতি নির্মূল, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মইনুল ইসলাম, এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, ফুলতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান প্রিন্সিপাল গাওসুল আযম হাদী, ফুলতলা উপজেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলিম মোল্লা, ডুমুরিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা মোক্তার হোসেন, নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আব্দুর রশীদ বিশ্বাস, আব্দুল কাইয়ুম আল ফয়সাল, ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা সাইফুল হাসান, হিন্দু কমিটির নেতা অমল মন্ডল, অসিত মন্ডল, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য নব কুমার, বাবুল কুমার, সন্ধ্যা মন্ডল, অশীত বাবু, সুধারাম হালদার ও অধ্যক্ষ গাজী মারুফুল কবির প্রমুখ।