শিরোনাম

ফেনী, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়াম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘এ দেশই আমার প্রথম ও শেষ ঠিকানা। এ দেশ ও মানুষের জন্য আমার সকল প্রকার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
উপস্থিত হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি দেশের মানুষের জন্য। স্বাভাবিকভাবে দেশের মানুষের কাজ করতে পরিকল্পনা থাকতে হবে। জনগণই হচ্ছে বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। তাই বিএনপির সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরের মানুষের যেমন বিএনপির কাছে দাবি আছে, ঠিক একইভাবে বিএনপিরও কিন্তু দাবি আছে আপনাদের কাছে। কী কী সেই দাবি? ধানের শীষকে জয়যুক্ত করা।’
আজ রোববার বিকেলে ফেনী পাইলট স্কুল মাঠে এক নির্বাচনী সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান এই দাবির কথা জানান। চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ড ময়দানে সমাবেশ শেষ করে ফেনী পাইলট স্কুল মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে তারেক রহমান এসে পৌঁছান ৫টা ৫৫ মিনিটে। সেখানে এসে তিনি মাগরিবের নামাজ আদায় করে মঞ্চে ওঠেন।
ফেনীর সমাবেশের পরে তারেক রহমান যাবেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে। এরপর কুমিল্লার সোয়াগাজী, দাউদকান্দি এবং নারায়ণগঞ্জের বালুর মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
গত ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এটি রাজধানীর বাইরে তার দ্বিতীয় প্রচারাভিযান।
নানাবাড়ির আত্মীয় হিসেবে বৃহত্তর নোয়াখালীর সব কয়টি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করার অনুরোধ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন সবাই? বহু বছর পরে ফেনীতে এসেছি। আজকে সকালে আমার প্রথম মিটিংটা ছিল চট্টগ্রামে। চট্টগ্রামের সাথে আমার একটা আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। আর ফেনীর সাথে রয়েছে আমার একটা আত্মীয়তার সম্পর্ক তথা গ্রেটার নোয়াখালীর সাথে রয়েছে একটা আত্মীয়তার সম্পর্ক। আমার নানার বাড়ি এখানে। তাই এখানকার মানুষের প্রতি আমার দাবি সবচেয়ে বেশি। সেই দাবি হলো— ধানের শীষকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন।’
তারেক রহমান বলেন, ‘১৭ বছর পর, স্বৈরাচারের পতনের পর দেশে এসেছি। কিছু পরিকল্পনা করেছি। নারী সমাজ, গ্রামাঞ্চলের খেটে খাওয়া নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া। কেউ কেউ বলছে এই সহযোগিতা চলবে কি না। কৃষক ভাইদের কৃষক কার্ড দিতে চাই। সার, কীটনাশক ও বীজ সরাসরি পৌঁছে দিতে চাই।’
ফেনীতে মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা ও ইপিজেড স্থাপনের ব্যাপারে নোয়াখালীবাসীর দাবির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘রফিকুল আলম মজনু একটু আগে বলল যে, ফেনীতে একটি মেডিকেল কলেজ দরকার। ইনশাআল্লাহ আমরা মেডিকেল কলেজ করবো।’
‘একই সাথে আপনারা যাতে চিকিৎসা সুবিধা পান বিশেষ করে গ্রামের মানুষ, আরো বিশেষ করে মহিলা এবং নারীরা ও শিশুরা যাতে করে চিকিৎসা সুবিধা পায়, তার জন্য আমরা সারাদেশে গ্রামে গ্রামে হেলথকেয়ারার নিয়োগ দিতে চাই। এই হেলথকেয়ারারটা কী? এখানে অনেক মুরুব্বী উপস্থিত আছেন। আপনাদের মনে আছে— শহীদ জিয়াউর রহমানের সময় পল্লী চিকিৎসক ছিল, পল্লী চিকিৎসক নাম শুনেছেন? এই পল্লী চিকিৎসকের মতন আমরা হেলথকেয়ারার দিতে চাই— যাদের কাজ হবে ঘরে ঘরে গিয়ে মা বোনদের কাছে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়। যাতে করে ছোটখাটো অসুখ-বিসুখের চিকিৎসা এই হেলথকেয়ারাররা মা-বোন এবং শিশুদেরকে ঘরে ঘরে গিয়ে সেবা দিবে। আর তাদেরকে (মা-বোন-শিশু) কষ্ট করে হাসপাতালে আসতে হবে না, যদি বড় কোনো অসুখ না হয়।’
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এক বছর আগে এই এলাকায় হঠাৎ করে বন্যা হলো। কোটি কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি ও আপনারা ভোগান্তিতে পড়েছেন। আমরা ক্ষমতায় গেলে সারাদেশে খাল খনন করতে চাই। একইভাবে সমাজে বহু তরুণ-যুবকের চাকরি-বাকরি, কর্মসংস্থান নাই। কর্মসংস্থান করতে চাই। ফেনী অঞ্চলে ইপিজেড করতে চাই। যাতে ফেনী এলাকার মানুষ চাকরি করতে পারে। আবার যারা প্রবাসে যেতে চান, তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। তারা সেখানে বেশি আয় করতে পারবেন। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে সহযোগিতা করতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।’
তারেক রহমান আরো বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অনেক কথা বলা যায়। তাতে জনগণের লাভ হবে না। জনগণের লাভ হবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড পেলে। দেশের আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হলে। দেশে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসলে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হবে। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। পরিবর্তন হলে ধীরে ধীরে সমস্যা কমে যাবে। ধানের শীষ নির্বাচিত হলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।’
তিনি বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বৃহত্তর নোয়াখালীর ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর দেশে নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিল না। আপনাদের কাছে আজ তাদেরকে রেখে গেলাম। ভোট দিয়ে তাদেরকে নির্বাচিত করুন। তাদের কাছে নিজেদের সুখ-দুঃখের কথা বলতে পারবেন। আপনাদের সমস্যা তাদেরকে জানাবেন, তারা সমাধান করতে দায়বদ্ধ থাকবেন।’
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালের সঞ্চালনায় ফেনী-৩ আসনের প্রার্থী দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ফেনী-১ আসনের প্রার্থী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের প্রার্থী চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যাপক জয়নাল আবদিন ভিপি ছাড়াও বক্তব্য রাখেন নোয়াখালীর প্রার্থীদের মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নাল আবদীন ফারুক ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ফখরুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুরের প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আশরাফ উদ্দিন নিজান ও শাহাদাত হোসেন সেলিম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক রেহানা আক্তার রানু, সহ-গ্রাম সরকার সম্পাদক বেলাল আহমেদ, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল লতিফ জনি, জালাল উদ্দিন মজুমদার, মামুনুর রশিদ মামুন, এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন খান, শাহেনা আক্তার শানু, আবু তালেব ও মশিউর রহমান বিপ্লব, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াছিন আলী, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি মাহবুব আলমগীর আলো, লক্ষ্মীপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন সাবু, ফেনী জেলা যুগ্ম-আহ্বায়ক এমএ খালেক, গাজী হাবিব উল্যাহ মানিক ও আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, সদর উপজেলা সভাপতি ফজলুর রহমান বকুল প্রমুখ।
ফেনী পাইলট মাঠে তারেক রহমানের এটি প্রথম সমাবেশ। এর আগে জেলার এ মাঠে তার মা বেগম খালেদা জিয়ার জনসভা হয়েছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর নানার বাড়ির জেলায় রাজনৈতিক সফরে ফেনী এসেছেন তারেক রহমান। তার আগমণে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মাঠে স্লোগান ও উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। তিনি দুই হাত নাড়িয়ে নেতাকর্মীদের অভ্যর্থনার জবাব দেন।
জনসভাস্থলসহ শহরের বিভিন্ন সড়কে ব্যানার-ফেস্টুন শোভা পায়। জনসভা ঘিরে দুপুর থেকে জেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড, উপজেলা, আশপাশের তিন জেলা থেকে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মিছিল সহকারে লোকজন সমাবেশস্থলে জড়ো হয়। শহরের মোড়ে মোড়ে ১০টি এলইডি স্ক্রিন স্থাপন করা হয়। শহরজুড়ে লাগানো হয় ১৫০টি মাইক। বিকেল থেকে জনস্রোতে পুরোশহর থমকে যায়।