শিরোনাম

ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস): ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, গণভোট দেশের রাজনীতির গতিধারা পাল্টে দেবে। আলোকিত দেশ গড়তে গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়যুক্ত করতে হবে।
আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত জাতীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানের সভাপতিত্বে জাতীয় ইমাম সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার ও ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও সাধারণ নির্বাচন। সাধারণ নির্বাচনে আপনি যাকে খুশি, তাকে ভোট দেবেন। আর গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দিয়ে দেশের চেহারা পাল্টে দেবেন।
তিনি আরও বলেন, একটি মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে যে, গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দিলে সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকবে না, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে না। কেউ বিভ্রান্ত হবেন না, এগুলো সব মিথ্যা প্রচারণা। তিনি সকলকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর অনুরোধ জানান।
গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় স্বৈরশাসনের অবসান ঘটাতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এজন্য ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দিতে হবে। উপদেষ্টা সকলকে 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে বিপ্লব সৃষ্টির জন্য আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, গণভোটের প্রার্থী আপনি, গণভোটের প্রার্থী আমি।
আমরা সবাই গণভোটের প্রার্থী। গণভোটের মাধ্যমে আমরা যে দিকনির্দেশনা তৈরি করে দেবো সে অনুসারে আগামীতে সরকারকে দেশ পরিচালনা করতে হবে। তিনি নিপীড়নমূলক, স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসন যেন পুনরায় ফিরে না আসে, সেজন্য সকলকে গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, 'হ্যাঁ' ভোট মানে জুলাই অভ্যুত্থান, আর 'না' ভোট মানে ফ্যাসিবাদ। মাঝামাঝি কোনো অবস্থান নেই। নীরব থাকার কোনো অবকাশ নেই। নীরব থাকা মানে ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা। তিনি ইমামদেরকে 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে জনমত তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান।
সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. শামছুল আলম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন, তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন বক্তব্য রাখেন।
সম্মেলনে সহস্রাধিক ইমাম-খতিব অংশগ্রহণ করেন।