শিরোনাম

ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরীর ১৩টি সংসদীয় আসনে 'ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম' গঠন করেছে সরকার।
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে।
নির্বাচনি এলাকা ১৭৭ (ঢাকা-৪) হতে ঢাকা-১২ (১৮৫), ঢাকা-১৪ (১৮৭) এবং ঢাকা-১৬ (১৮৯) হতে ঢাকা-১৮ (১৯১) আসনসহ মোট ১৩টি আসনের আওতাধীন এলাকায় এই টিম কাজ করবে।
অবজারভেশন টিমে যারা থাকছেন :
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে এই কমিটির আহবায়ক এবং সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মুহাম্মদ ফজলুর রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আজমল হোসেন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. আজমুল হক, পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মো. আব্দুর রহিম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন ও এপিএমবি) মিজ সালমা খাতুন, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) এস. এম নজরুল ইসলাম।
কমিটিতে আরও আছেন, ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (অপারেশনস) মো. সিদ্দিকুর রহমান, ঢাকা রেঞ্জ আনসার ও ভিডিপির পরিচালক মোহা. ইয়াছিন আরাফাত, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) ও মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান, মাধ্যমিক শিক্ষা ঢাকা অঞ্চলের উপপরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আব্দুল আজিজ এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।
টিমের কার্যপরিধি :
আদেশে টিমের সাতটি কার্যপরিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ১.গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এবং সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ যথাযথভাবে পালন হচ্ছে কিনা, বা ভঙ্গ হচ্ছে কিনা বা ভঙ্গ হওয়ার আশংকা রয়েছে কিনা তা সরেজমিনে পরিদর্শন করবে এই টিম।
২.নির্বাচনি প্রচারণা ও নির্বাচনি ব্যয় বাবদ নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত ব্যয় করেছে কিনা অথবা অন্যান্য বিধি-বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন করছে কিনা তা সরেজমিনে পরিদর্শন করবে।
৩.আচরণ বিধিমালা ভঙ্গের কোন বিষয় নজরে আসা মাত্রই বিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ অথবা নির্বাচনি তদন্ত কমিটি (ইলেক্ট্রোরাল ইনকোয়ারি কমিটি/এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট/জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা)-কে জানাতে হবে।
৪.নির্বাচনি বিধি-নিষেধ ভঙ্গের ক্ষেত্রে মামলা দায়েরের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে ফৌজদারি আদালতেও অভিযোগ দায়ের করা যাবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে উদ্ভূত সমস্যাবলী তাৎক্ষণিকভাবে নিরসনের পরামর্শ প্রদান করবে এই টিম।
৫. প্রার্থী বা তাঁর নির্বাচনি এজেন্ট বা তাঁদের পক্ষে অন্য কেউ আচরণ বিধিমালার কোন বিধি ভঙ্গ করলে বা ভঙ্গ করার চেষ্টা করলে বা বিধিমালার কোন বিধি বিশেষ করে নির্বাচনি ব্যয় সংক্রান্ত বিধি-বিধান (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৪৪ক) যথাযথভাবে প্রতিপালন না করলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রার্থী বা তাঁর প্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট কমিটি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে অবহিত করবে।
৬.কমিটির সদস্য কর্তৃক দাখিলকৃত প্রতিবেদন একীভূত করে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার সার্বিক পরিস্থিতির ওপর প্রতিদিন পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পাঠাবে এই কমিটি।
৭.রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক তাৎক্ষণিকভাবে বিধিমতে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা বা টিম কর্তৃক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ব্যবস্থা নিতে পারবে টিম।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদের ওপর গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।