বাসস
  ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:২৩

পাঁচ বছর পর আদালতের সামনে পুনঃগণনা, মিলল ভোট কারচুপির প্রমাণ

সিলেট, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : নির্বাচনের প্রায় পাঁচ বছর পর ভোট কারচুপির মাধ্যমে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণার প্রমাণ পেয়েছেন আদালত। আদালতের সামনে ভোট পুনঃগণনায় বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। বুধবার সিলেটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং নির্বাচনি ট্রাইবুনালের বিচারক বিশ্বেশ্বর সিংহ ভোটে বিজয়ী ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী মো. সোহেল আমিনকে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সিলেটের কানাইঘাট পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হয়। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ‘জগ’ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সোহেল আমিনের ভোট কম দেখিয়ে তাকে পরাজিত করা হয় এবং নৌকা প্রতীকের প্রার্থী লুৎফুর রহমানকে ১৪৬ ভোট বেশি পেয়ে ‘নির্বাচিত হয়েছেন’ মর্মে মেয়র ঘোষণা করা হয়। অথচ, গত ১০ নভেম্বর আদালতের সামনে ভোট পুনঃগণনায় দেখা গেছে— স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সোহেল আমিন ৬৮৪ ভোট বেশি পেয়েছিলেন।

রায়ে বিজয়ী মো. সোহেল আমিনকে মেয়র ঘোষণা করে সাতদিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশের জন্য নির্বাচন কমিশন আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রায় ঘোষণার পর মামলার বাদী সোহেল আমিন সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে সত্যের জয় হয়েছে। নির্বাচনে আমার প্রাপ্ত ভোট বেশি থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় সেই সময় ক্ষমতার প্রভাবে জোরপূর্বকভাবে ফলাফল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফুর রহমানকে বিজয়ী ঘোষণা করা ছিল সম্পূর্ণ অবৈধ। আমি এই ফলাফলের বিরুদ্ধে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছিলাম। তিন কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি ও কারচুপির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত পুনরায় ভোট গণনা করে প্রমাণ পেয়েছেন। ফলাফলে দেখা গেছে, নৌকা প্রতীকের চেয়ে জগ প্রতীকে ৬৮৪ ভোট বেশি ছিল।

নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের পৌরসভা নির্বাচনে কানাইঘাটে মেয়র পদে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী লুৎফুর রহমানকে নৌকা প্রতীকে ৩ হাজার ৮৩২ ভোট দেখিয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিলেটের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের। পরে সেই অনুযায়ী গেজেট প্রকাশিত হয়। এই সুযোগে আওয়ামী লীগ নেতা লুৎফুর রহমান মেয়র পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে অপসারিত হওয়ার আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, সোহেল আমিন পেয়েছিলেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৮৬ ভোট। মেয়র প্রার্থী ছিলেন ছয়জন। সেই সময়ের ঘোষিত ফলাফলে, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. নিজাম উদ্দিন নারিকেল গাছ প্রতীকে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৩ ভোট পান। ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী মো. শরিফুল হক ২ হাজার ৫২০ ভোট পেয়েছিলেন, মোবাইল ফোন প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাওছার আহমদ ৬১৩ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নজির আহমদ হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছিলেন ২১২ ভোট।