শিরোনাম

ঢাকা, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২)-এর একটি হালনাগাদ ও নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ বাংলা পাঠ প্রকাশ করা হয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ বাংলা পাঠের প্রজ্ঞাপনটি বিজি প্রেসের ওয়েবসাইটে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে এ বিষয়ে ৭ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
নতুন এই প্রজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে ২০২৩ সালে প্রকাশিত পূর্ববর্তী বাংলা পাঠটি অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা এবং তৎসংশ্লিষ্ট ও আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়। তাই সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এ আদেশ প্রণয়ন ও জারি করেন। এ আদেশ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ নামে অভিহিত হবে। এটি সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য এবং অবিলম্বে কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপনে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২০২৫ সালে জারিকৃত বিভিন্ন সংশোধনমূলক অধ্যাদেশের বিধানসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে এই নতুন নির্ভরযোগ্য বাংলা পাঠ তৈরি করা হয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আইনে স্বচ্ছতা ও স্পষ্টতা আনতেই এই উদ্যোগ।
জামানত ও প্রার্থিতার শর্ত
নতুন এই বাংলা পাঠে ২০২৫ সালের সংশোধনীর আলোকে নির্বাচনী জামানত ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। এছাড়া কোনো ব্যক্তি আদালত কর্তৃক ‘ফেরারি বা পলাতক আসামি’ হিসেবে ঘোষিত হলে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
ব্যক্তিগত তথ্যের স্বচ্ছতা ও হলফনামা
বাংলা পাঠ অনুযায়ী, মনোনয়নপত্রের সাথে প্রার্থীর অর্জিত সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সত্যায়িত সনদ, ফৌজদারি মামলার রেকর্ড এবং ব্যবসা বা পেশার সঠিক বিবরণী প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষভাবে, প্রার্থীদের দেশে ও বিদেশে থাকা সকল পরিসম্পদ ও দায়ের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করতে হবে। এছাড়াও সর্বশেষ করবর্ষের আয়কর রিটার্নের অনুলিপি জমা দেওয়াও এখন থেকে বাধ্যতামূলক।
ভোট কেন্দ্র ও কর্মকর্তাদের সুরক্ষা
ভোট কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে পাঠে বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থীর মালিকানাধীন প্রাঙ্গণে কেন্দ্র করা যাবে না। ভোটগ্রহণের অন্তত ২৫ দিন আগে চূড়ান্ত তালিকা গেজেট করতে হবে। প্রিজাইডিং বা পোলিং অফিসারদের দায়িত্ব পালনে বাধা দিলে বা অনিয়ম করলে কমিশন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও বরখাস্তের ক্ষমতা পাবে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নতুন সংজ্ঞা
বাংলা পাঠ অনুযায়ী, নির্বাচনী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় পরিবর্তন এনে পুলিশ, আনসার ও বিজিবির পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলা পাঠে প্রার্থীদের দাখিলকৃত হলফনামা ও তথ্য সাধারণ ভোটারদের জন্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ এবং প্রার্থীর সম্পর্কে জানার অধিকার আরও সুসংহত হবে।
দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৯৪ক-তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই বাংলা পাঠটি প্রকাশ করা হয়েছে। অবিলম্বে তা কার্যকর হবে।