শিরোনাম

ঢাকা, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): স্থগিত হওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ, ২০২৫’-এর লিখিত পরীক্ষা আজ (শুক্রবার) বিকেল ৩টা থেকে শুরু হবে।
তিন পার্বত্য জেলা ব্যতীত দেশের ৬১টি জেলার ১ হাজার ৪০৮টি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। বিকেল ৩টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে এ পরীক্ষা চলবে।
পরীক্ষা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে এবং যেকোনো ধরনের জালিয়াতি রোধে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) মো. মোখলেছুর রহমান বাসসকে বলেন, ‘পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জালিয়াতি ও গুজব রোধে জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে। আমাদের বিশেষ মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক তদারকিতে থাকছে।’
পরীক্ষা পদ্ধতি ও মান বণ্টন :
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৯০ নম্বরের এই লিখিত পরীক্ষা এমসিকিউ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। সময় বরাদ্দ ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে (নেতিবাচক নম্বর পদ্ধতি)। ডিজিটাল জালিয়াতি ঠেকাতে এবারও চার সেট প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়েছে, যা চারটি ভিন্ন রঙের কাগজে মুদ্রিত। সেট ভেদে একই প্রশ্ন ও উত্তর ভিন্ন ভিন্ন ক্রমিকে বিন্যস্ত থাকবে।
নিরাপত্তা ও তদারকি :
পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা পুলিশ ফোর্সসহ ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র গ্রহণ করে পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে কেন্দ্রে পৌঁছাবেন। প্রশ্নপত্রের ট্রাংকগুলো বিশেষ বেল্ট ও ডাবল লক পদ্ধতিতে সিলগালা করে ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
মোবাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসে নিষেধাজ্ঞা :
পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন করতে পারবেন না। এটি নিশ্চিত করতে কেন্দ্রের মূল ফটকে তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এছাড়া কেন্দ্রসচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া অন্যকোনো কর্মকর্তা বা কক্ষ পরিদর্শক পরীক্ষা চলাকালীন মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। নিয়ম অমান্য করলে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঘোষণা করা রাষ্ট্রীয় শোকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গত ২ জানুয়ারির নির্ধারিত এই পরীক্ষাটি স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে ৯ জানুয়ারি পরীক্ষার তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়।