বাসস
  ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৫৩

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গ্যাস সংযোগই হবে অগ্রাধিকার : খোন্দকার আবু আশফাক

ঢাকা-১ (দোহার ও নবাবগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী খোন্দকার আবু আশফাক। ছবি: বাসস

ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকা-১ (দোহার ও নবাবগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী খোন্দকার আবু আশফাক বলেছেন, স্থানীয়ভাবে টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য দোহার ও নবাবগঞ্জ এলাকায় গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করাই হবে তার প্রধান অগ্রাধিকার। 

তিনি বলেন, গ্যাস সুবিধা চালু হলে শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে এবং এতে এলাকার মানুষকে কর্মসংস্থানের জন্য আর বাইরে যেতে হবে না।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাসস’র স্টাফ রিপোর্টার ওবাইদুর রহমান।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে মাত্র ৩৫-৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হলেও দোহার ও নবাবগঞ্জ এলাকায় এখনো গ্যাস সংযোগ পৌঁছায়নি। এর ফলে এখানে বড় শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি এবং কর্মসংস্থানের সংকট দীর্ঘদিনের। আর এই সংকটের কারণে আমাদের এলাকার মানুষ জমি-বাড়ি বিক্রি করে বিদেশে যেতে বাধ্য হচ্ছে। কর্মসংস্থান বাড়াতে তাই শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

খোন্দকার আবু আশফাক আরও বলেন, ‘গ্যাস সংযোগ দেওয়া গেলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা এখানে বিনিয়োগ করবেন। মিল-কারখানা গড়ে উঠবে, নারীসহ স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান হবে এবং পুরো এই অঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে।’

তিনি জানান, ইছামতি নদী খনন করে সুইচগেটের মাধ্যমে পদ্মা নদীর সঙ্গে সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসবে এবং সেচ সুবিধা বাড়িয়ে কৃষিকে স্বনির্ভর করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি এই এলাকার খাল ও অনান্য যত নদী রয়েছে তা খননের মাধ্যমে মৎস্য খাত পুনরুজ্জীবিত করে জেলেদের জীবিকায় গতি ফেরানো হবে।

দোহার-নবাবগঞ্জ এলাকার ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসময় এখান থেকে লুঙ্গি ও শাড়ি দেশের বাইরেও রপ্তানি হতো। বর্তমানে ন্যায্যমূল্য ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে শিল্পটি প্রায় বিলুপ্ত। নির্বাচিত হলে ভর্তুকি ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে তাঁত শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে দোহার-নবাবগঞ্জ-শ্রীনগর সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি ঢাকার দিকে ফ্লাইওভারের একটি শাখা সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দিতে চান জানিয়ে খোন্দকার আবু আশফাক বলেন, এলাকায় আধুনিক হাসপাতাল, মানসম্মত ক্লিনিক ও একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলে দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিস্তারকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জনগণকে সম্পৃক্ত করে আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব অপরাধ দমন এবং মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

তিনি বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা নির্বাচন কমিশনের দেওয়া আচরণবিধি মেনেই প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবুও কেউ যদি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে তার দায় ব্যক্তি নিজেকেই নিতে হবে।

জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোটে তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন বলেন, ‘আমি নিজেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করে এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছি। আমার সকল নেতাকর্মীকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

দীর্ঘদিন পর মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর।

এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪৫ হাজার ১৩৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৬ হাজার ৫০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৬৯ হাজার ৮৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন। এছাড়া পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ৮ হাজার ৫১৮ জন।

আসনটিতে খোন্দকার আবু আশফাকের প্রতিদ্বন্দ্বী ছয় জন রয়েছেন। তারা হলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নূরল ইসলাম (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা (লাঙ্গল), বাংলাদেশ লেবার পার্টির শেখ মো. আলী (আনারস) এবং স্বতন্ত্র প্রার্র্থী অন্তরা সেলিমা হুদা (হরিণ)।