বাসস
  ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৩৯

প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবো : টাঙ্গাইল-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর

টাঙ্গাইল-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর। ছবি: বাসস

টাঙ্গাইল, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর বলেছেন, বাসাইল ও সখীপুরকে বৈষম্যমুক্ত উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। 

এছাড়া এলাকার উন্নয়নে তিনি জনগণের কাছে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বেকারত্ব দূরীকরণেও পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন এ প্রার্থী।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন হরিণ প্রতীকে লড়াই করা সালাউদ্দিন আলমগীর। দিয়েছেন নানা প্রশ্নের উত্তর। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা মহিউদ্দিন সুমন।

বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?

সালাউদ্দিন আলমগীর : মানুষের জন্য কিছু করার মধ্যেই আমার আনন্দ। আমি নির্বাচিত হলে বাসাইল ও সখীপুর এই দুটি উপজেলাকে বৈষম্যমুক্ত উন্নয়নের রোল মডেল  হিসেবে গড়ে চলতে চাই। আমার নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের জীবনমানের উন্নয়ন এবং তরুণ বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টির মাধ্যমে স্বাবলম্বী হিসেবে দক্ষ জনমানবসম্পদে পরিণত করতে চাই।

সেই সঙ্গে ধ্বংস হয়ে যাওয়া শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। সন্ত্রাস, মাদক, ঘুষ, দুর্নীতি, জুয়া, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে নামিয়ে আনতে চাই। 

সাম্য মানবিক মর্যাদায় সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বন্ধন বজায় রেখে কাজ করতে চাই। কৃষকদের জন্য সরকারি প্রণোদনা, ভর্তুকির সার ও বীজ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চাই। সখিপুর পাহাড়ি অঞ্চলের সবজি উৎপাদন ও কলা, ড্রাগনসহ বিভিন্ন ফল উৎপাদনে প্রান্তিক চাষীদের ব্যাংক থেকে বিশেষ কৃষি ঋণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চাই।

আমি নির্বাচনে এসেছি মূলত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্টসহ নানা অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটাতে চাই। দুই উপজেলার যুব সমাজের জন্য ট্রেনিং সেন্টারের ব্যবস্থা করে দেওয়া আমার নির্বাচনের অন্যতম প্রতিশ্রুতি।

বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?


সালাউদ্দিন আলমগীর : আমি প্রত্যাশা করি বিগত নির্বাচনগুলোর চেয়ে এবারে নির্বাচন ভিন্ন ও অর্থবহ হবে। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনে করি সুন্দর এবং সুষ্ঠু একটি নির্বাচন হোক। নির্বাচনে একটি ভোট পেলেও খুশি। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষতার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হতে হবে। আমি যেখানেই যাচ্ছি নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে সতর্ক থাকছি, নেতা-কর্মীদের আচরণবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালনে অনুরোধ জানিয়ে যাচ্ছি।

বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?

সালাউদ্দিন আলমগীর : গ্রাম অঞ্চলের অনেক মানুষই জুলাই ও গণভোট সর্ম্পকে জানে না। তাদের মধ্যে আরও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। সচেতন হলে ভোটাররা গণভোটের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। হ্যাঁ বা না ভোটের বিষয়ে জনগণ যেটা ভালো মনে করবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। মানুষ চায় বৈষম্যের অবসান।

বাসস : আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

সালাউদ্দিন আলমগীর : সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে এদেশে ছাত্র-জনতার আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে না। একটি 

আবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রযোগ করে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেবে। জনগণ ও ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ভোটাররা গোপনে এবং প্রকাশ্যে সাড়া দিচ্ছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে, নীরব ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হব ইনশাল্লাহ। 

টাঙ্গাইল-৮ সখিপুর ও বাসাইল উপজেলা নিয়ে গঠিত। আসনটিতে ২টি পৌরসভা ও ২০টি ইউনিয়ন রয়েছে। মোট ১৩১টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। আসনটিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ১৪ হাজার ৮২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬ হাজার ৬২৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ১৯৮ জন এবং ৫ জন তৃতীয় লিঙ্গের।

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে এ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, জামায়েত ইসলামীর মো. শফিকুল ইসলাম খান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আউয়াল মাহমুদ ও আমজনতা পার্টির মো. আলমগীর হোসেন।