শিরোনাম

টাঙ্গাইল, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ আসনে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেছেন, বাসাইল ও সখিপুরকে নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্রিয়ভাবে কাজ করবো।
এছাড়া এলাকার উন্নয়নে তিনি জনগণের কাছে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বেকারত্ব দূরীকরণেও পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন এ বিএনপি প্রার্থী।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন ধানের শীষ প্রতীকে লড়াই করা অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান। দিয়েছেন নানা প্রশ্নের উত্তর। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা মহিউদ্দিন সুমন।
বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
আহমেদ আযম খান : দীর্ঘ ১৮ বছর পর একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মধ্যে এখন উৎসব মুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এবার সময় এসেছে ধানের শীষে ভোট দিয়ে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করা। তাই আগামী দিনে আমরা আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও সুশৃঙ্খল বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা আশা করি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আমাদের উপহার দেবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়ই আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। এছাড়া নির্বাচনী প্রতিশ্রতির ক্ষেত্রে দুটি উপজেলা বাসাইল ও সখিপুরকে নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্রিয়ভাবে কাজ করবো। সেই সঙ্গে এলাকাবাসীর জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি ব্রিজ, কালভার্ট ও রাস্তাঘাট নির্মাণ করতে চাই। এলাকায় বেকারত্ব দূরীকরণে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণে ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণ করার চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ।
বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
আহমেদ আযম খান : নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি শতভাগ মেনে চলতে হবে। আমার দলের সকল নেতাকর্মীদের স্পষ্টভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি পালনের জন্য প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেছি। কোনো ধরনের সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, পোস্টার বা ব্যানার ব্যবহারে বিধি লঙ্ঘন করা যাবে না। তবে সকল প্রার্থীর ক্ষেত্রে প্রশাসনকে সমভাবে এ আইন প্রয়োগ হতে হবে। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আবারও গণতন্ত্রের পূর্ণাঙ্গ রূপ ফিরে পাবে।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
আহমেদ আযম খান : দীর্ঘ বছর ফ্যাসিষ্টের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ছিল। জনগণই ঠিক করবে তারা ‘হ্যাঁ’ না ‘না’ ভোট দেবে। আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেওয়া ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের কথা বলা আছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের জন্য আমরা ভোট চাচ্ছি, পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে আমরা আছি।
বাসস : আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
আহমেদ আযম খান : দেশের মানুষ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করে। কারণ, তারা বিগত ১৪, ১৮ এবং ২৪ সালে ভোট দিতে পারেনি। এবার জনগণ তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছে। ভোটাররাও মুখিয়ে আছেন উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য। তাই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে এবং একটি উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভোটাররা ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনবে ইনশাআল্লাহ।
টাঙ্গাইল-৮ সখিপুর ও বাসাইল উপজেলা নিয়ে গঠিত। আসনটিতে ২টি পৌরসভা ও ২০টি ইউনিয়ন রয়েছে। মোট ১৩১টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। আসনটিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ১৪ হাজার ৮২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬ হাজার ৬২৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ১৯৮ জন এবং ৫ জন তৃতীয় লিঙ্গের।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে এ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, জামায়েত ইসলামীর মো. শফিকুল ইসলাম খান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আউয়াল মাহমুদ ও আমজনতা পার্টির মো. আলমগীর হোসেন।